৬ বলে দরকার ৭ রান। ক্রিজে জমে যাওয়া দুই ব্যাটসম্যান। এই অবস্থা থেকেও কীভাবে ম্যাচ হারতে হয়, তা ফের একবার দেখিয়ে দিল নিউজিল্যান্ড। শেষ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ম্যাচ টাই করে শেষ পর্যন্ত সুপার ওভারে গিয়ে হেরে গেল নিউজিল্যান্ড। আগের ম্যাচে শেষ ওভারে দুরন্ত বোলিং করে ভারতকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন মহম্মদ শামি। এ দিন আরও অবিশ্বাল্য বোলিং করলেন তরুণ শার্দুল ঠাকুর। তার সঙ্গে বিরাটের দুরন্ত ফিল্ডিংয়েই হারের মুখ দেখল নিউজিল্যান্ড। 

সুপার ওভারে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। কে এল রাহুলের উইকেট হারালেও ভারতকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তৃতীয় ম্যাচের পর চতুর্থ ম্যাচেও অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিলেন কোহলিরা। এ দিন প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ তোলে ভারত। জবাবে ১৬৫ রানেই শেষ হয় কিউইদের ইনিংস। এর পর সুপার ওভারে ভারত জয় তুলে নেয়। 

এ দিনের ম্যাচে চূড়ান্ত নাটক অপেক্ষা করছিল নিউজিল্যান্ড ইনিংসের কুড়িতম ওভারে। সেই সময় ক্রিজে ছিলেন নিউজিল্যান্ড-এর দুই জমে যাওয়া ব্যাটসম্যান রস টেলর এবং সেইফার্ট। ছ' বলে তখন নিউজিল্যান্ড-এর প্রয়োজন সাত রান, হাতে সাত উইকেট। কিন্তু এই নিউজিল্যান্ড দলটা যেন জিততেই ভুলে গিয়েছে। কুড়িতম ওভারের প্রথম বলেই শার্দুল ঠাকুরের বলে বড় শট নিতে গিয়ে আউট হন টেলর। পরের বলে চার মারেন ড্যারিল মিচেল। এর পরের বলেই রান আউট হন সেইফার্ট। চতুর্থ বলে হয় এক রান। পঞ্চম বলে ড্যারিল মিচেলকে ফেরান শার্দুল। শেষ বলে ২ রান দরকার ছিল  নিউজিল্যান্ড-এর। কিন্তু কোহলির দুরন্ত ফিল্ডিংয়ে রান আউট হন স্যান্টনার। টাই হয়ে যায় ম্যাচ। 

সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাট করে বুমরার ওভারে ১৩ তোলে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু সাউদির প্রথম দু' বলেই দশ তোলেন কে এল রাহুল। তৃতীয় বলে তিনি ফিরলেও ভারতকে ঠান্ডা মাথায় লক্ষ্যে পৌঁছে দেন বিরাট কোহলি। জেতা ম্যাচ কীভাবে মাঠে ফেলে আসতে হয়, তা আরও একবার দেখিয়ে দিল নিউজিল্যান্ড। বিশ্বকাপ ফাইনাল থেকে সুপার ওভার নিয়ে তাদের আতঙ্ক যেন কাটছে না। 

এ দিন রোহিত শর্মা, মহম্মদ শামিকে বিশ্রাম দেয় ভারত। তার পরেও জয় পেতে অসুবিধা হলো না কোহলিদের। টসে জিতে প্রথমে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান কিউই অধিনায়ক টিম সাউদি। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল হয়নি ভারতের। এক কে এল রাহুল ছাড়া কেউই বড় রান পাননি। শেষ দিকে ৩৬ বলে ৫০ রান করে পরিস্থিতি সামাল দেন। বোলিংয়ের মতো ব্যাট হাতেও দলকে এ  দিন ভরসা দিয়েছেন শার্দুল। ১৫ বলে ২০ রান করেন তিনি। তাঁকেই ম্যাচের সেরা বাছা হয়। টিম ইন্ডিয়ার এবার লক্ষ্য কিউইদের ঘরের মাঠেই তাদের হোয়াইটওয়াশ করা।