প্রথমে বল হাতে চেন্নাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টে  ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়েছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ৪৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে গড়েছেন একাধিক রেকর্ড। টেস্ট ক্রিকেটে সব থেকে বেশি বার বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যানকে আউট করার পাশাপাশি ঘরের মাঠে টেস্টে ৫ উইকেট নেওয়ার পরিসংখ্যানে টপকে গিয়েছেন হলভজন সিংকেও। আর এবার ব্যাট হাতে দলের দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করে অশ্বিন আরও একবার প্রমাণ করলেন, প্রয়োজনের সময় কথা বলে তার ব্যাটও।

অস্ট্রেলিয়া সফরে সিডনিতে তৃতীয় টেস্টে হনুমা বিহারীর সঙ্গে ম্যাচ বাঁচানো ইনিংস খেলেছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। পিঠে প্রচন্ড ব্যাথা নিয়ে অশ্বিনের ইনিংস প্রশংসিত হয়েছিল সর্বত্র। এবার ঘরের মাঠে চেন্নাইয়ের স্পিন সহায়ক উইকেটে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন অশ্বিন। প্রাক্তন ইংল্যান্ড তারকা থেকে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছিলেন চিপকের পিচ ব্যাটিংয়ের একেবারে অযোগ্য। এই পিচ স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য। ফলে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা চলচিল অশ্বিনের বোলিংয়ের কৃতিত্ব। এবার যেই উইকেটে তাবড় তাবড় ব্যাটসম্যানরা দাঁড়াতে পারছেন না, সেখানে সেঞ্চুরি করে সমালোচকদের যোগ্য জবা দিলেন ভারতীয় তারকা স্পিনার। 

৫৪ রানে ১ উইকেট নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে ভারতীয় দল। কিন্তু একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপ বাড়তে থাকে টিম ইন্ডিয়ার উপর। একসময় ১০৬ রানে ৬ উইকেট পড়ে গিয়েছিল ভারতীয় দলের। সেই সময় দলের রাশ ধরেন অধিনায়ক কোহলি ও অশ্বিন। দুজন মিলে ৯৬ রানের পার্টনারশিপ করেন। কোহলি ৬২ রান করে আউট হলেও, নিজের ইনিংস চালিয়ে যান অশ্বিন। কোহলি আউট হওয়ার পর প্রথমে টেলেন্ডারদের নিয়ে নিজের অর্ধশতরান পূরণ করেন ভারতীয় তারকা স্পিনার। তারপর শেষে নিজের শতরানও পূরণ করেন অশ্বিন।

১০৬ রান করে আউট হন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ২৮৬ রানে শেষ হয় ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস। ১৪টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো অশ্বিনের এই অনবদ্য ইনিংস। বল হাতে একাধিক রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি এবার ব্যাট হাতেও রেকর্ড গড়লেন অশ্বিন। শাকিব আল হাসানের পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে একই টেস্টে ৫ উইকেট এবং শতরান করার বিরল রেকর্ড গড়লেন তিনি। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে এটি ছিল অশ্বিনের পঞ্চম শতরান। যা কিনা ৭-৮ নম্বরের ব্যাটসম্যানের পক্ষে অভাবনীয়। অশ্বিন ও বিরাটের এই ইনিংসের সৌজন্যে ইংল্যান্ডকে ৪৮২ রানের টার্গেট দিয়েছে ভারতীয় দল। বিরাট ব্রিগেডের  ম্যাচ জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা বলে মত ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের।