করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের কারণে কোনওভাবেই বন্ধ হচ্ছে না আইপিএল। আরও একবার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। নির্দিষ্ট দিনেই আইপিএল শুরু হবে বলেও জানানো হয়ছে ভারতয়ী ক্রিকেট বোর্ডের তরফে। সুষ্ঠুভাবে টুর্নামেন্ট করতে সকল প্রকার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বোর্ড করবে বলে জানানো হয়েছে আইপিএল গর্ভনিং বডির তরফে। এবিষয়ে আগেও খোদ আশ্বস্ত করেছেন আইপিএল গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ব্রিজেশ প্যাটেল। 

আরও পড়ুনঃটোকিও অলিম্পিকের ছাড়পত্র পেল ৫ ভারতীয় বক্সার, শুভেচ্ছা কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর

বিশ্বজুড়ে ক্রমশ থাবা বসাচ্ছে করোনা ভাইরাস। ক্রমশ বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। কার্যত আতঙ্কপুরীতে পরিণত হয়েছে গোটা চিন। বাদ  নেই ভারতও। এদেশেও আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে। করোনার থাবা থেকে বাদ যায়নি ক্রীড়া ক্ষেত্রও। করোনা আতঙ্কে প্রশ্ন চিহ্নের মুখে পড়ে গিয়েছে অলিম্পিকের ভবিষ্যৎ। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে টোকিও অলিম্পকে দর্শক নিষিদ্ধ করার চিন্তা-ভাবনাও রয়েছে। জাপান, চীনে স্থগিত রাখা হয়েছে সমস্ত ঘোরায়া ফুটবল টুর্নামেন্ট। করোনা আতঙ্কের জেরে বাতিল করা হয়েছে সুলতান আজলান শাহ কাপ হকি। শুধু মাত্র এশিয়া নয় করোনার আতঙ্ক গ্রাস করেছে উইরোপের খেল জগৎকেও। ইউরোপে ইতিমধ্যেই ৬টিরও বেশি দেশে স্থগিত করা হয়েছে রাগবি চ্যাম্পিয়নশিপ। দর্শকহীন স্টেডিয়ামে হচ্ছে ইতালির ঘরোয়া ফুটবল লিগ। 

আরও পড়ুনঃ ২০১৪ থেকে ঝুলিতে নেই কোনও আইসিসি ট্রফি, তবু কী করে ক্রিকেটের সেরা শক্তি ভারত

করোনাভাইরাসের থাবা থেকে বাদ যায়নি ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রও। ইতিমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে ভারতীয় অনূর্ধ্ব ১৬ দলের তাজাকিস্তান সফর। আইপিএলের ক্ষেত্রে অনেক প্রশ্ন উঠলেও, বোর্ডের তরফ থেকে বার বার আশ্বস্ত করা হয়েছে  করোনা ভাইরাস আতঙ্কের কারণে আইপিএলের ভবিষ্যত নিয়ে কোনও সংশয়  নেই। কিন্তু সম্প্রতি মহারাষ্ট্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রী রাজেশ টোপ বলেছেন, যেভাবে লাগাতার করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তাতে আইপিএল পিছিয়ে দিতে হবে কিনা তা নিয়ে সরকার আলোচনা চালাচ্ছে। মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্য দফতর একটি বিবৃতি জানিয়েছে, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত একটিও করোনা আক্রান্তের কেস পাওয়া না গেলেও, ১৫ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পর্যবেক্ষণের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ২৫৮ জনকে। মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আরও জানিয়েছেন, একসঙ্গে বহু মানুষ কোনও জায়গায় একত্রিত হলে ছোয়াচে রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে। ফলে আইপিএলের মত অনুষ্ঠান পরে করা যেতে পারে। রাজেশের টোপের এহেন মন্তব্যের পরই আইপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ ২৯  মার্চ মুম্বাইতেই আইপিএলের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হতে চলেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও চেন্নাই সুপার কিংস। 

আরও পড়ুনঃফাইনালে হেরে হতাশ ভারতীয় দল, প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে ব্যর্থ সিনিয়ররা

মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রীর মন্তব্যের পরই ফের আসরে নামে  বিসিসিআই। বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্য়ায় পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন, নির্দিষ্ট সময় ও সূচি মেনেই হবে আইপিএল। বোর্ড সকল প্রকার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেবে। একইসঙ্গে সরকার তরফ থেকে দেওয়া সতর্কতামূলক নির্দেশিকাটি খেলোয়াড়, ফ্র্যাঞ্চাইজি, এয়ারলাইনস, টিম হোটেল, সম্প্রচারকর্মী এবং টুর্নামেন্টের জড়িত সকলের কাছে পৌছে দেওয়া হবে। নির্দেশিকাটি মেনে চলারও সবরকম ব্যাবস্থা করা হবে।