অনেক আগেই নিজের অবসরের দিন ঘোষণা করেছিলেন লাসিথ মালিঙ্গা। সেই অনুসারে শুক্রবার কলোম্বোয় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিজের ক্রিকেট কেরিয়ারের শেষ ম্যাচ খেললেন তিনি। সেদিনের গোটা ম্যাচ জুড়ে এতটুকু উনিশ বিশ হয়নি তাঁর ফর্ম। বরং বুঝিয়ে দিয়েছিলেন আজও তাবড় ব্যাটসম্যানদের ধরাশায়ী করার জন্য  তিনি একাই যথেষ্ট। এমনকি ম্যাচের  শেষ বলেও তুলে নিয়েছিলেন একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। 

তিন ম্যাচের সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৯১ রানে জয় হয়েছিল শ্রীলঙ্কার। ৩১৪ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল বাংলাদেশের সামনে। তবে শেষ রক্ষা করতে পারেনি বাংলাদেশ। মালিঙ্গা শুরুতেই তুলে নিয়েছিলেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের উইকেট। ফলে মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারেনি বিপক্ষ দল। এমনকি  নিজের শেষ ওভারেও বাংলাদেশ-কে রেহাই দেননি লাসিথ। ওভারের শেষ বলে আউট করেছিলেন মুস্তাফিজুর-কে। মাত্র ৩৮ রান দিয়ে তুলে নিয়েছিলেন ৩টি উইকেট। যা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচটি জিততে সাহায্য করেছিল তাদের। 

২০০৪ সালে আরব আমিরশাহী-র বিরুদ্ধে অভিষেক করেছিলেন এই ঝাঁকড়া চুলের বোলার। তারপর কেটে গেছে ১৪টি বছর। এই চোদ্দ বছরে নিজের দেশের জন্য মোট ২২৬ টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। সঙ্গে রয়েছে সর্বমোট ৩৩৮ টি উইকেট, যা পিছনে ফেলেছে প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক অনিল কুম্বলে-কে। বিশ্বের নবম উইকেটপ্রাপক হিসাবে নিজের কেরিয়ার শেষ করলেন মালিঙ্গা। 

        

বিদায়ের পরেই টুইটারে তাঁকে আগামিদিনের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বহু ক্রিকেটার। বাদ পড়েননি ভারতের রোহিত-বুমরাহও। কারন তাঁরা সকলে মুম্বাইয়ের দলে একই সঙ্গে খেলেছেন।  মালিঙ্গার অবসরের পর ভারতের সহ অধিনায়ক রোহিত শর্মা লিখেছেন, মুম্বই ইন্ডিয়ানস দলের এক নম্বর ম্যাচ উইনার হলেন লাসিথ মালিঙ্গা। তাঁর উপস্থিতি কখনওই মাথা নত করতে দেয়নি রোহিতকে। প্রচণ্ড চাপের মুখেও অক্সিজেনের মতো কাজ করেছে তাঁর ইয়র্কার ম্যাজিক। এছাড়াও জাস্প্রিত বুমরাহ লিখেছেন, ক্রিকেটের জন্য মালিঙ্গা যা করেছেন তার জন্য তাঁকে অসংখ্য ধন্যবাদ। পরেও লিখেছেন যে তিনি বরাবরই  সম্মান করেন লাসিথকে এবং ভবিষ্যতেও করবেন।