আজ আইপিএলের আরও একটি মেগা ফাইট। মাঠে নামছেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ও অজি তারকা ডেভিড ওয়ার্নারের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। দুবাইতে খেলা হবে এই ম্যাচ। ব্যাঙ্গালোর বনাম হায়দরবাদের এই লড়াইকে সুপারস্টারদের লড়াই বলা হয়ে থাকে। কারণ দুই দলেই একাধিক সুপারস্চার ক্রিকেটারদের উপস্থিতি। যদিও সাফল্যের নিরিখে হায়দরবাদের দল দুবার চ্যাম্পিয়ন হলেও, এখনও আইপিএল ট্রফি অধরা ব্যাঙ্গালোরের কাছে। তাই এইবার মরুদেশে চ্রফি জিততে বদ্ধ পরিকর আরসিবি অধিনিয়াক বিরাট কোহলি। অপরদিকে ফের সানরাইজার্সের অধিনায়ক হয়ে ফিরছেন ওয়ার্নার। আগে একবার ২০১৬ দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন ওয়ার্নার। ফাইনালে হারিয়েছিলেন বিরাটের দলকেই। এবার আরও একাবর ভাল কিছু করে দেখাতে মরিয়া সানরাইজার্স হায়দরবাদ।

দুই দলের ব্যাটিং লাইনআপে রয়েছে একাধিক তারকার। ব্যাঙ্গালোর দল মূলত নির্ভর করে বিরাট কোহলি ও প্রোটিয়া তারকা এবি ডিভিলিয়ার্সের উপর।  যদিও এবছর আরসিবি দলে যোগ দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া দলের সীমিত ওভারের অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। ফলে এবছর আরসিবির ব্যাটিং লাইনআপ আরও শক্তিশালি হয়েছে। এবছর বিরাট কোহলির দলে সকলের বাড়তি নজর থাকবে তরুণ তুর্কি দেবদুত পাড়িকলের উপর। সীমিত ওভারের ঘরোয়া ক্রিকেটে গত বছর সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন তিনি। এছাড়াও রয়েছেন পার্থিব প্যাটেল, মঈন আলি, শিবম দুবে, ক্রিস মরিসদের মত তারকারাও।

অপরদিকে সানরাইজার্স হায়দরবাদ দলও তারকায় ভরপুর। তাদের ওপেনিং জুটি এবারের আইপিএলের অন্যতম সেরা ও বিধ্বংসী ওপেনিং জুটি হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এসআরএইচের হয়ে এবছর ওপেন করবেন অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার ও ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটসম্যান জনি বেয়ারস্টো। এছাড়াও মিডল অর্ডারে রয়েছে অপর এক তারকা ব্যাটসম্যান নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। এরপর দলে নিশ্চিৎভাবে থাকবেন মণীশ পাণ্ডে বিজয় শংকর।  তারপর বিরাট সিংহ,প্রিয়ম গর্গ,আব্দুল সামাদের মধ্যে কেউ সুযোগ পাবেন দলে। ফলে নীচের দিকে পাওয়ার হিটারের কিছুটা অভাব রয়েছে সানরাইজার্স দলে।

দুই দলের বোলিং আপের বিচার করলে কিছুটা এগিয়ে বিরাট কোহলির দল। বিরাটের দলে পেস বোলিং বিভাগের দায়িত্ব সামলাবেন মুলত প্রোটিয়া তারকা ডেল স্টেইন ও ভারতীয় তরুণ পেসার নবদীপ সাইনি ও অভিজ্ঞ উমেশ যাদব। এছাড়াও রয়েছে ক্রিস মরিস ও শিবম দুবের মত মিডিয়াম পেসাররা। স্পিন বিভাগেও রয়েছে ভারতীয় তারকা লেগ স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহল। তাকে সঙ্গ দেবেন ওয়াশিংটন সুন্দর। এছাড়া সুযোগ পেলে নজর থাকবে বাংলার বাঁহাতি স্পিনার অলরাউন্ডার শাহবাজ আহমেদের দিকেও। বোলিং নিয়ে প্রতিবার বিরাট কোহলির একটু চিন্তা থাকলেও, এবার তার দল অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী বলে জানিয়েছেন ক্যাপ্টেন কোহলি।

অপরদিকে ওয়ার্নারের দলে তরুপের তাস হলেন আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খান। এছাড়াও চোট সারিয়ে ক্রিকেটে ফিরছেন ভারতীয় তারকা পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। তারউপরও বাড়তি দায়িত্ব থাকবে হায়দরাবাদের বোলিংয়ের। এছাড়া যখনই সুযোগ পেয়েছেন নিজেরে প্রমাণ করেছেন অপর আফগান তারকা স্পিনিং অলরাউন্ডার রশিদ খান। তাছাড়াও দলে রয়েছে সিদ্ধার্থ কল, খালিল আহমেদ, বিজয় শঙ্কররাও। এই দুই দল যখনই মুখোমুখি হয়েছে দুরন্ত ক্রিকেট উপহার দিয়েছে। এবারও একে অপরকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ বিরাট কোহলি ও ডেভিড ওয়ার্নার। আরও একটি রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব।