রঞ্জি ট্রফিতে বাংলা সিনিয়র দলে খেলার সুযোগ পেল রামপুরহাটের সতেরো বছরের কিশোর গোলাম মুস্তাফা। দলে পনেরো জনের জায়গায় পেস বোলার হিসাবে সুযোগ করে নিয়েছে সতেরো বছরের কিশোর। তার সাফল্যে গর্বিত রামপুরহাট শহর।

গোলাম মুস্তফা। বাড়ি রামপুরহাট পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাজারপাড়ায়। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে বড় গোলাম। বাবা ফিরোজ আলম পেশায় এক চিকিৎসকের সহায়ক। গত বছর রামপুরহাট জিতেন্দ্রলাল বিদ্যাভবন থেকে মাধ্যমিক পাশ করেছে গোলাম। ছোট থেকেই ক্রিকেটের প্রতি ঝোঁক ছিল তার ।

আরও পড়ুন- 'আমাকে যা ইচ্ছে বলুন, পরিবারকে নয়', কড়া বার্তা দিলেন রোহিত

রামপুরহাট মহকুমা ক্রীড়া সংস্থার মাঠে প্র্যাক্টিস করত গোলাম। সিএবি-র প্রশিক্ষকরা রামপুরহাটে এসে প্রশিক্ষণ দিয়ে যেতেন। তার পেস বোলিং নজরকাড়ে সিএবি-র প্রশিক্ষকদের। এর মাঝে জেলা ও রাজ্য স্তরের বেশ কয়েকটি খেলায় সাফল্য পেয়েছে গোলাম। এর পরেই সুযোগ আসে কোচবিহার ট্রফিতে বাংলার হয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ রঞ্জি দলে। কোচবিহার ট্রফিতে ইতিমধ্যে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, রাজস্থানের বিরুদ্ধে খেলায় ৩২টি উইকেট পেয়ে তাক লাগিয়ে দেয় গোলাম। তাতেই বাংলা সিনিয়র দলের নির্বাচকদের নজরে পড়ে যায় সে। এর পরেই সোমবার চিঠি দিয়ে তাকে রঞ্জি সিনিয়র দলে সুযোগ পাওয়ার কথা জানানো হয় সিএবি-র তরফে।  

আগামী ১১ থেকে ১৪ জানুয়ারি নাগপুরে বিদর্ভের বিরুদ্ধে খেলা। যে খেলার সরাসরি সম্প্রচার সারা দেশ দেখতে পাবে। পনেরো জনের দলের মতো প্রথম এগারোতেও গোলাম সুযোগ পাবে বলে আশাবাদী তার পরিবার। ছেলের সাফল্যে গর্বিত বাবা ফিরোজ আলম। তিনি বলেন, “ছেলের সাফল্যের পিছনে সম্পূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে রামপুরহাট ক্রীড়া সংস্থার কর্তাদের। তারা না থাকলে এই সাফল্য আসট না। এখন জাতীয় দলে সুযোগ পেলে আমরা আর ও খুশি হব।' গোলাম বলেন, 'অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেটে যে সাফল্য এসেছে সেই ধারাবাহিকতা রঞ্জি ট্রফিতে ধরে রাখার চেষ্টা করব। তবে আমার সামনে এখন চ্যালেঞ্জ জাতীয়স্তরে সুযোগ পাওয়া। সেই লক্ষ্যে আমি লড়াই করে যাব।'