২২ গজের খেলায় আরও একবার বিপ্লব আনতে চলেছে প্রযুক্তি। বর্তমানে ফুটবলে যেমন মাইক্রোচিপ লাগানো থাকে, তেমনই ক্রিকেট বলেও মাইক্রোচিপ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে একেবারে ডেলিভারির সঙ্গে সঙ্গে রিয়েল টাইমে বলের গতি-সহ বিভিন্ন পরিসংখ্য়ান মিলবে। স্পিনাররা বল কতটা ঘুরছে কোনদিকে ঘুরছে, সেই তথ্যও পেয়ে যাবেন।

এতে করে একদিকে যেমন বোলাররা নিজেদের পারফরম্যান্সের পর্যালোচনা করতে পারবেন, তেমনই কোচিং-ও অনেক সহজ হয়ে যাবে। আবার দর্শকদের ক্রিকেট দেখার অভিজ্ঞতাও অন্যরকম হয়ে উঠতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই ধরণের বল তৈরি করেছে স্পোর্টসকোর নামে একটি ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থা। সংস্থাটি চালান প্রাক্তন অজি পেসার মাইকেল কাসপ্রোইচ। এই বল তৈরির জন্য তার সংস্থা জোট বেঁধেছিল বল প্রস্তুতকারী সংস্থা কোকাবুরার সঙ্গে।

আপাত দৃষ্টিতে এমনি বল এবং স্মার্টবলগুলির মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। কিন্তু, ম্য়াচ কন্ডিশনে স্মার্টবল, সাধারণ বলের মতোই আচরণ করে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। সেই পরীক্ষায় উতরোতে পারলে, প্রথমে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া প্রতিযোগিতা বিগ ব্যাশ লিগে ব্যবহার করা হবে এই বল। কোকাবুরা সংস্থার অবশ্য আসল লক্ষ্য টেস্ট ক্রিকেট। আইসিসি এই বলকে অনুমোদন দিলে আগামী দিনে টেস্ট ক্রিকেটেও স্মার্টবল ব্যবহার করা হবে।

শনিবার ঐতিহাসিক লর্ডস স্টেডিয়ামের নেটে এই বল প্রথম প্রকাশ্য়ে আনা হয়েছে। উপস্থিত ছিলে কাসলপ্রোইট নিজে এবং ইংরেজ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জস বাটলার। লর্ডসের নেটে কাসপ্রোইচ স্মার্টবল দিয়ে কয়েকবার হাতও ঘোরান। বাটলার জানিয়েছেন এই বল সাধারণ বলের মতোই আচরণ করে। সবকিছু ঠিক থাকলে এই বলকে পাঁচদিনের ক্রিকেটে ব্যবহার করা উচিত বলে মত দিয়েছেন বাটলার। কাসপ্রোইচের দাবি ভবিষ্যতে এই বল ডিআরএস-এর ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।