শুধু সরকারি ঘোষণার অপেক্ষা। বৃহস্পতিবার দুপুর বা বিকেলের মধ্যে হয়তো হয়ে যাবে ঘোষণাও। বাতিল হতে চলেছে চলতি বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হতে চলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এমনটাই খবর আইসিসি সূত্রে। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বৈঠকে বসছে আইসিসি, বিসিসিআই, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া সহ বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিরা। সেখানেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভবিষ্যতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে চলেছে। সূত্রের খবর, বৈঠকের পরই বা দু-একদিনের মধ্যেই আইসিসির তরফ থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হতে পারে। 

আরও পড়ুনঃকরোনা যুদ্ধে নীল-সাদা জার্সি ছেড়ে খাকি উর্দি গায়ে রাস্তায় জতীয় মহিলা ফুটবলার ইন্দুমতি

বিশ্ব জুড়ে করোনা থাবা বসানোর পর থেকেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে।  বিশ্বকাপ আয়োজন করার যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে গেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও। এখনও তারা হাল ছাড়তে নারাজ। কিন্তু সূত্রের খবর সব দিক বিচার,বিশ্লেষন করে বিশ্বকাপ বাতিলের সিদ্ধান্তই নিতে চলেছে আইসিসি। কারণ, বিশ্বকাপ খেলতে ১৬ টি দেশ অস্ট্রেলিয়ায় আসবে। প্রতিটি দলের সঙ্গে প্লেয়ার,কোচ, সাপোর্টিং স্টাফ, অফিসিয়াল কর্মীরা মিলিয়ে কমপক্ষে ৩০ জন থাকবে। যা শিডিউল রয়েছে, তাতে মোট সাতটা ভেনুতে ৪৫টি ম্যাচ হওয়ার কথা। ফলে  ট্রাভেলের ব্যাপারটা বেশ কঠিন হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও প্রতিটি দলের সকলকে  ১৪ দিনের আইসোলেশনের রাখার বিষয়টিও খটকা লাগছে আইসিসিরি। এছাড়া প্রত্যেকটি স্টেডিয়ামকে পরিবেশ বান্ধব করাও সম্ভব নয়। সূত্রের খবর, এই সবদিক বিচার করেই বিশ্বকাপ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে আইসিসি।

আরও পড়ুনঃক্রমশ দূরত্ব বাড়ছে বার্সা কোচ ও মেসির, অস্বস্তি বাড়ছে ক্লাব কর্তৃপক্ষের

এবছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাতিল হলেও, তার ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা। কারণ পরের বছর ভারতের মাটিতে রয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হতে পারে ফের ২০২২ সালে। একমাত্র পরের বছর বিসিসিআই যদি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে ছেড়ে দেয় বিশ্বকাপের আয়োজন, তাহলে ২০২১-এ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হতে পারে বিশ্বকাপ। সেক্ষেত্রে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে ২০২২-এ। করোনার কারণে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বিসিসিআইয়ের থেকে অস্ট্রেলিয়ার ক্ষতির পরিমাণ বেশি। কিন্তু বিশ্বকাপের মত টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ বিসিসিআই ছাড়বে কিনা তা নিয়ে একটা প্রশ্ন চিহ্ন থেকেই যাচ্ছে। যার ফলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার।

আরও পড়ুনঃ'ভয়ঙ্কর সুন্দর মুহূর্ত',মৃত্যুকে উপেক্ষা করেই সঙ্গমে মত্ত যুগল,কিন্তু কেন এই কেরামতি

বৃহস্পতিবার আইসিসির এই খুব গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিসিসিআইয়ের তরফে জয় শাহের বদলে যোগ দিতে চলেছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। বিশ্বকাপের পাশাপাশি আইসিসির বৈঠকে প্রসঙ্গ উঠতে পারে এশিয়া কাপ নিয়েও। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে হওয়ার কথা এশিয়া কাপ। কিন্তু এই পরিস্থিতি, মনে হয় না সেটা আর সম্ভব হবে। পিসিবিঅবশ্য চাইছে টুর্নামেন্ট করতে। না হলে তাদেরও একটা বড়সড় আর্থিক ক্ষতির সামনে পড়তে হবে। তবে ভারতীয় ক্রিকেট মহল সূত্রের খবর, বৈঠকে এশিয়া কাপ নয়, প্রাধান্য পেতে চলেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও আইপিএল। বিশ্বকাপ বাতিল হয়ে গেলে ওইসময় বিসিসিআই চেষ্টা করবে আইপিএল করার। আইপিএল প্রসঙ্গও আইসিসি বৈঠকে উঠতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাতিল ঘোষণা হলে, অক্টোবর-নভেম্বর মাসে আইপিএল হওয়ার একটা ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সবকিছুই থাকছে বৃহস্পতিবার আইসিসি বৈঠকের অ্যাজেন্ডায়।