এক লহমায় যদি বায়োডাটা-টা দেখে নেওয়া যায়। তাহলে এমন- নাম- বরুণ চক্রবর্তী। বাড়ি কর্ণাটকেক বিদরে। খেলেন- তামিলনাড়ুর হয়ে। পড়াশোনা- এসআরএম ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছেন সর্বসাকুল্লে দুই বছরের একটু বেশি। কিন্তু, আইপিএল-এর জামানায় বরুণ যা আয় করছেন তার জন্য হাপিত্যেশ করে থাকেন ছোট থেকে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর প্রত্যেকেই। অনেকে তাই বরুণ-কে লাকি বয় বলেও ডাকেন। আসলে হবে না-ই বা কেন এবারের আইপিএল নিলামেও এক জ্যাকপট মেরেছেন বরুণ চক্রবর্তী। আনক্যাপড প্লেয়ার হিসাবে এবার যে দর তিনি পেয়েছেন তা চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মতো। আর এই দর দিয়েছে খোদ কলকাতা, মানে কলকাতা নাইট রাইডার্স। একজন আনক্যাপড প্লেয়ারের জন্য ৪ কোটি টাকা খরচ করেছে কেকেআর। 

২০১৯-এর আইপিএল-এ কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের হয়ে খেলেছিলেন বরুণ। সেই আইপিএল-এও তাঁর দর উঠেছিল ৮.৪ কোটি টাকা। যা তাঁর বেস প্রাইসের থেকে ৪২ গুণ বেশি ছিল। কিন্তু, একটি মাত্র ম্যাচ খেলতে পেরেছিলেন বরুণ। চোট পেয়ে তিনি আইপিএল ২০১৯ থেকেই ছিটকে যান। এবার আইপিএল-এর নিলামেও বরুণের নাম ছিল। তবে, আনক্যাপড প্লেয়ারের তালিকায় ছিল তাঁর নাম। কিন্তু, আনক্যাপ-এও যে এতটা দর পাবেন তা কল্পনাতেও আনতে পারেননি। 

লেগ ব্রেক বোলিং করেন বরুণ। সেইসঙ্গে ব্যাটের হাতও মন্দ নয়। ১৯৯১ সালের ২৯ অগাস্ট কর্ণাটকের বিদরে জন্ম তাঁর। এই মুহূর্তে ২৮ বছরের সামান্য একটু বেশি বয়স তাঁরয়। কর্ণাটকের টি-টোয়েন্টি লিগের নিয়মিত খেলোয়াড় তিনি। তাঁর দলের নাম কড়াইকুড়ি কালাই। এছাড়াও তামিলনাড়ু-র ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর দলের নাম সিয়েচেম মাদুরাই প্যান্থার্স। ২০১৯-এর আইপিএল-এ ২৭ মার্চ তাঁর অভিষেক হয়েছিল ইডেন গার্ডেন্সে। আর এই ম্যাচেই চোট পেয়ে বাকি আইপিএল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন বরুণ। কাকতালীয়ভাবে সেই ইডেনই এবার হতে চলেছে বরুণের হোম গ্রাউন্ড। বরুণ-কে যে কেউ এবারের আইপিএল-এ কিনবে তাই ধারনাতে ছিল না। যদিও, আইপিএল-এর অন্দরমহলের দাবি, বরুণ তাঁর লেগ ব্রেকের জন্য প্রতিটি দলের স্ট্র্যাটেজি বুকে ছিলেন। তবে তালিকায় তাঁর নামটা নিচের দিকেই ছিল। যদি প্রথম দিকের কোনও প্ল্যান ফেল হয় তাহলেই বরুণকে লেগ ব্রেকার হিসাবে দলে নিতে নাকি তৈরি ছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি। আর এই ফর্মূলাতেই বরুণকে ঝুলিতে পুরে নিয়েছে কেকেআর।