তিনি নানা বিষয়ে কথা বলতেন, কিন্তু কখনও অভিযোগ তাঁর কথায় উঠে আসত না। তবে এবার সেই খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে এলেন যুবরাজ সিং। স্টেপ আউট করে একাধিক বিষয়ে টিম ম্যানেজমেন্টকে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। নাম না করে তুলোধোনা করলেন বিরাট কোহলি ও কোচ রবি শাস্ত্রীর। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর দল থেকে বাদ পরেছিলেন যুবি। শেষ আট থেকে নটি ম্যাচের মধ্যে, দুটি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পেয়েছিলেন। কিন্তু চোটের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে খেলা হয়নি। তাঁকে বলা হয়েছিল শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে খেলার জন্য প্রস্তুতি নিতে। সেই সময়ই ভারতীয় ক্রিকেট আসে ইয়ো ইয়ো টেস্ট। যে এই টেস্টে পাশ করতে পারবেন না তার দলে জায়গা হবে না। এমনটাই বলা হয়েছিল। যুবরাজ বলছেন, ‘ওরা ভেবেছিল ৩৬ বছর বয়েসে আমি ইয়ো ইয়ো টেস্ট পাস করতে পারব না। কিন্তু আমি সেই পরীক্ষা পাস করেছিলাম। তারপরও আমার আর জাতীয় দলে জায়গা হয়নি। এমনকি কেউ এসে আমায় বলেনি আমাকে নিয়ে আর টিম ম্যানেজমেন্ট ভাবছে না। ঠিক যেমন ভাবে কথা বলা হয়নি শেহওয়াগ-জাহিরদের সঙ্গে।’ যুবরাজ বারবার বলেন তিনি সেই সময় টিম ম্যানেজমেন্টের সমর্থন পাননি। 

আরও পড়ুন - দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বিরাটদের প্রথম পছন্দ ঋদ্ধি, বুমরার চোট নিয়ে তাড়াহুড়ো চায় না টিম ম্যানেজমেন্ট

এখানেই শেষ নয়, ২০১৯ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের ব্যর্থতার জন্যও টিম ম্যানেজমেন্টর একাধিক সিদ্ধান্তকে কাঠগড়ায় তুলছেন যুবরাজ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ইংল্যান্ডের পরিবেশে ব্যাটিং অর্ডারে চার নম্বর জায়গাটার গুরুত্বটাই বুঝতে পারেনি কোচ অধিনায়ক ও নির্বাচকরা। তাই বারবার সিদ্ধান্ত বদলে একাধিক ক্রিকেটারকে দিয়ে চার নম্বরের নিয়ে পরীক্ষা চলেছে।  ২০১১ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের প্রশ্ন, ‘অধিনায়ক-কোচ বা নির্বাচকরা কি জানেন না একদিনের ক্রিকেটে চার নম্বর জায়গাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?’ বিরাট কোহলি রবি শাস্ত্রীর জুটির একাধিক এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার নিজের রাগ কিছুটা হলেও উগরে দিলেন যুবরাজ। পাশাপাশি এখন টি২০ বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে বিরাটরা যে ৯ নম্বর পর্যন্ত ব্যাটিং অর্ডার তৈরির পরিকল্পনা করছেন সেটাকেও সমর্থন করেন না যুবি। বলছেন, ‘আইপিএলের দিকে তাকিয়ে দেখুন, সব থেকে বেশি টাকা খরচ করতে হয় সঠিক বোলিং কম্বিনেশন তৈরি করতে। টি২০ ক্রিকেটে এখন বোলিংটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। টিম ম্যানেজমেন্টকে বুঝতে হবে বিশ্বকাপ জেতার জন্য ভাল বোলার চাই।’

আরও পড়ুন - মোদীর পরেই স্থান ধোনির, তাই বলছে সমীক্ষার রিপোর্ট

পাশাপাশি রোহিত শর্মাকে টেস্ট ওপেনার হিসেবে অনেক আগে থেকেই দলের ভাবা উচিত ছিল বলেই মনে করছেন যুবরাজ। তাঁর মতে রোহতিকে টেস্ট ক্রিকেটে কোনও দিনই সিরিসলি নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে বলে দিচ্ছেন রোহিত যদি একটি বা দুটি টেস্ট ব্যর্থ হয় তাহলেই যেন তাঁকে দলে থেকে আবার সরিয়ে দেওয়া না হয়। কেএল রাহুল যখন এত সুযোগ পেয়েছেন, তখন রোহিকে যেন অন্তত ৬টি টেস্ট ম্যাচ দেখার পরই চুড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে যায় টিম ম্যানেজমেন্ট। একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া খোলামেলা ইন্টারভিউতে কোহলি শাস্ত্রীর নাম যুবরাজের মুখে  খুব বেশি আসেনি। কিন্তু একটা কথা বারবার উঠে এসেছে, সেটা ‘টিম ম্যানেজমেন্ট’ আর ক্রিকেট মহল খুব ভাল করেই জানে টিম ম্যানেজমেন্ট বলতে অধিনায়ক ও কোচকেই বোঝানো হয়।  

আরও পড়ুন - এবার বিশ্ব ক্রিকেট সোশ্যাল মিডিয়ায়, আইসিসির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধল ফেসবুক