বাংলাদেশে মৌলবাদীদের দাপট ক্রমেই বাড়ছে। এই অবস্থায় দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ সরকার স্লোগান চালু করেছে 'ধর্ম যার যার, উৎসব সবার'। এই কথা ঠিক যে বাংলাদেশে দুর্গাপুজোয় হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে উৎসবে মাতেন। তবে এই বছর পুজো শুরুর হওয়ার ঠিক মুখেই বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আর সেই কারণেই এই বছর দুর্গাপুজোয় বাংলাদেশে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

চলতি বছরেই বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় মৌলবাদিদের হাতে প্রতিমা ভাংচুর হয়েছে। গত একমাসেই চাঁদপুরের পুরান বাজার সর্বজনীন দুর্গা মন্দির, ময়মনসিংহের মাওরাবাড়ি মন্দির, মৌলবীবাজারের কদুপুরে ভৈরব মন্দির, দিনাজপুরের করই সর্বজনীন দূর্গা মন্দিরে প্রতিমা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে দোষীরা ধরা পড়লেও বাকি ঘটনাগুলির কোনও মীমাংসা হয়নি।

এই অবস্থায় দুর্গাপুজো-কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে অশান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়ে সেই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল দাবি করেছেন কমিটি বা জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব ও ভুল বোঝাবুঝির কারণেই মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে দুর্গাপুজোয় অন্যান্য বছরের তুলনায় নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর ঘোষণা করেছে শেখ হাসিনা প্রশাসন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশ, বাংলাদেশের সেনা বাহিনীর সদস্যরা সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মজুত থাকবে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা প্রায় ৩ লক্ষ। প্যান্ডেলে সিসিটিভি, আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরও থাকবে। পুজোর সময় ইভটিজারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মহিলা স্বেচ্ছাসেবক, জমকল ও নৌ-পুলিশও উপস্থিত থাকবে। এছাড়া, প্রতিটি জেলা সদর ও উপজেলা সদরে পুলিশ কন্ট্রোল রুম খোলা হচ্ছে।
 
মৌলবাদীদের হুমকির আবহেও কিন্তু এই বছর বাংলাদেশে পুজোর সংখ্যা অনেকটাই বাড়ছে। গোটা দেশে মোট ৩১০০০ মণ্ডপে পুজো হচ্ছে৷ রাজধানী ঢাকার পুজোর সংখ্যা ২৩৭৷ সব মিলিয়ে গতবছরের তুলনায় বাংলাদেশে গত বছরের তুলনায় মণ্ডপ বেড়েছে ১০০০টি।