মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পিছনে বড় অবদান রয়েছে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের। এবার মমতার রাজত্বেই ব্যারাকপুরকে দ্বিতীয় নন্দীগ্রাম করার হুমকি দিলেন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংহ। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে জয় শ্রীরাম লেখা দশ লক্ষ কার্ড পাঠানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ। 

গত বৃহস্পতিবার ঘরছাড়া তৃণমূল কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে নৈহাটিতে যান মমতা। সেখানে গিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সতর্ক করে দেন রাজ্য পুলিশের ডিজি-কেও। অর্জুন সিংহের অভিযোগ, তার পর থেকেই ব্যারাকপুর, নৈহাটি এলাকায় সাধারণ মানুষের উপরে অকারণ অত্যাচার চালাচ্ছে পুলিশ। এর প্রতিবাদে শনিবার নৈহাটি থানা ঘেরাও করে বিজেপি। সেখানে গিয়েই অর্জুন সিংহ বলেন, "পুলিশ পুলিশের কাজ করুক, আমাদের কিছু বলার নেই। কিন্তু যদি পুলিশ নিরীহ মানুষের উপরে অত্যাচার করে, তাহলে আমরা ছেড়ে কথা বলব না। মুখ্যমন্ত্রী যেন মাথায় রাখেন ব্যারাকপুরও নন্দীগ্রাম হতে পারে।"

বিজেপ সমর্থকদের উদ্দেশে অর্জুনের পরামর্শ, "পুলিশ এসে অত্যাচার করলেই নিজের মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করুন। এদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হাতে রাখতে হবে। পুলিশের পোশাক গায়ে আর পায়ে হাওয়াই চটি পরে লাঠি, বন্দুক নিয়ে কারা অত্যাচার চালাচ্ছে, তার ছবি তুলে রাখুন।"

বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যারাকপুর যাওয়ার সময় দু' দফায় তাঁর কনভয়ের সামনে জয় শ্রীরাম ধ্বনি দেওয়া হয়। দু' বারই ক্ষুব্ধ মমতা গাড়ি থেকে নেমে স্লোগান দেওয়ার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পুলিশকেও যথাযাথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে উদ্দেশ করে গালাগাল দেওয়া হয়েছে। পরে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটকও করে। 

এই ঘটনাতেও মুখ্যমন্ত্রীকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অর্জুন সিংহ। তিনি বলেন, "আমরা সাতদিনের মধ্যে জয় শ্রীরাম লেখা দশ লক্ষ কার্ড মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির ঠিকানায় পাঠিয়ে দেব। উনি দশ লক্ষ লোককে গ্রেফতার করুন। আমরা তার জন্য তৈরি।"
সব মিলিয়ে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুতেই কমছে না। বৃহস্পতিবার অবশ্য মমতা নৈহাটিতে গিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, ওই আসন তিনি পুনর্দখল করেই ছাড়বেন।