২০১৪ সালের থেকেও বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে বিজেপি। এই বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সঙ্কল্পপত্র প্রকাশের পর এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে মোদী আরও দাবি করেছেন, শুধু বিজেপিই নয় এনডিএ শরিক দলগুলিরও শক্তি বৃদ্ধি হবে। দেশের ১২৫ কোটি মানুষ এই বিষয়ে মন স্থির করে নিয়েছেন বলেই মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।


লোকসভায় বিজেপির কটি আসন

ভারতের লোকসভা রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিন্দি বলয়ের ভোট। ২০১৪ সালে বিজেপি এই এলাকার মোট ১৭৮টি লোকসভা আসনের মধ্যে বিজেপি ১৬৮ টি আসন জিতেছিল। কাজেই এখান থেকে আসন বাড়ানোটা বিজেপির সামনে প্রায় অসম্ভব কাজ। নরেন্দ্র মোদী অবশ্য এই পাটিগণিতের হিসেবকে পাত্তা দিতে নারাজ। তিনি জানান, রাজনীতির অঙ্ক আর পাটিগণিতের হিসেব আলাদা। তাঁর মতে যেসব জায়গায় বিজেপি বেশি আসন পেয়েছিল সেখানে সেই আসন ধরে রাখবে এবং ত্রিপুরা বা অন্যান্য এলাকায় যেখানে বিজেপির আসন ছিল না, সেইসব জায়গা থেকে এইবার আসন আসবে। সব মিলিয়ে আরও শক্তিশালী কার গড়তে দারুণ আত্মবিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী।

বুয়া-ভাতিজা জোট প্রসঙ্গে

সবচেয়ে বেশি আসন থাকা রাজ্য উত্তরপ্রদেশে জোট বেঁধেছে বসপা এবং সপা। এতে বিজেপির পক্ষে উত্তরপ্রদেশে আগেরবারের আসন ধরে রাখা অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। নরেন্দ্র মোদী অবশ্য মনে করাচ্ছেন, নিজেদের পায়ের মাটি সরে গিয়েছে বলেই পরস্পর যুযুধান এই দুই দলকে এক ছাতার নিচে আসতে হয়েছে। খড়কুটো ধরে তাঁরা বাঁচার চেষ্টা করছেন।

সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে

একই সাক্ষাতকারে মোদী আরও একবার অভিযোগ করেছেন সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কংগ্রেসের ইস্তাহারের ভাষা পাকিস্তানের মতো। তাঁর মতে সন্ত্রাসবাদকে শেষ করার এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে দাঁড়িয়ে আছে দেশ। সেই সময় কংগ্রেসের ইস্তাহারে  জঙ্গিদের প্রতি নরম মনোভাব দেখানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আফস্পা আইন প্রত্যাহারের অর্থ সেনাদের হাত থেকে অস্ত্র সরিয়ে দেওয়া। তাঁর মতে দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে, যাতে আফস্পা প্রয়োগের প্রয়োজন না পড়ে।

বিদেশ নীতি সম্পর্কে

চিনের সঙ্গে একাধিকবার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরও চিন পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে। মোদী জানিয়েছেন, চিনের সঙ্গে সীমানা-সহ বেশ কিছু বিষয়ে মত পার্থক্য রয়েছে। দুই পক্ষই সেই পার্থক্য মেনে নিয়েই সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে। তিনি জানান, আগে আকর্জাতিক মহল পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াতো। আর শুধু রাশিয়া ভারতের পক্ষে থাকত। কিন্তু এখন অবস্থাটা বদলে গিয়েছে। ভারতের পক্ষে সবাই, আর পাকিস্তানের পাশে শুধু চিন। এটাই তার সাফল্য।

কাশ্মীর সমস্যা

তাঁর মতে, বল্লবভাই প্যাটেলের হাতে থাকলে কাশ্মীর সমস্যা জুনাগড় বা নিজামদের মতো গোড়াতেই মিটে যেত। কিন্তু তা হয়নি বলেই এখনও সেই সমস্য়ার ভার বইতে হচ্ছে। তাঁর দাবি লাদাখ বা জম্মুতে কোনও সমস্যা নেই। যেটুকু সমস্যা আছে তা শ্রীনগরের আড়াইটি জেলায়। প্রধানমন্ত্রীর দাবি সেই সঙ্গে উন্নয়নের কাজও সমানভাবে চলছে। কিন্তু, ৩৫ (ক) ও ৩৭০ ধারার জন্য জম্মু কাশ্মীরে কেউ বিনিয়োগ করতে পারছেন না। তাতেই সমস্য়া আরও বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি।

রাফাল অভিযোগের জবাব

রাফাল দুর্নীতির অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে রাফাল নিয়ে কোনও প্রমাণ রাহুল গান্ধীর হাতে নেই। এমনকী এই নিয়ে রাহুলের বাজার গরম করার চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। মোদীর মতে রাজীব গান্ধীর বোফর্স দুর্নীতির পাপ ধোয়ার জন্যই রাহুল কোনও প্রমাণ ছাড়া এরকম গালগপ্পো ছড়াচ্ছেন।