Eastern Railway: জরুরি কারণ ছাড়াই চেন টেনে ট্রেন থামানোর প্রবণতা বাড়ছে পূর্ব রেলের যাত্রীদের মধ্যে। কিন্তু এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে সমস্যায় পড়তে হয় যাত্রীদের। পাশাপাশি রেলের সূচিও ঘেঁটে যায়। এবার কড়া হচ্ছে পূর্ব রেল। 

দূরপাল্লার ট্রেন নিয়ে নতুন বি়ড়ম্বনায় পূর্ব রেলওয়েল। সম্প্রতি দূরপাল্লার ট্রেনে চেন টেনে থামিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। যাতে একদিকে যেমন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের , অন্যদিকে তেমনই অতিরিক্ত চেন টেনে ট্রেন থামানোর কারণে ঘেঁটে যাচ্ছে ট্রেনের সময়সূচি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার যথেষ্ট কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে পূর্ব রেল। জরুরি কারণ ছাড়া চেন টেনে ট্রেন থামালেই শাস্তি পেতে হবে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে।

পূর্ব রেলের ঘোষণা

পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশনের ডিআরএম বিশাল কাপুর জানিয়েছেন, বিশেষ করে হাওড়া-বর্ধমান শাখায় চেন টেনে ট্রেন থামানোর প্রবণতা মারাত্মক আকার নিয়েছে। তিনি বলেছেন, 'সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে কিছু যাত্রী নিজেদের সুবিধে মত প্রকৃত জরুরি কারণ ছাড়াই ট্রেনের চেন টানছে। যাত্রীদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে ট্রেনের গতি কমছে। যার প্রভাব পড়েছে পুরো রেল পরিষেবার ওপর।' তিনি আরও বলেছেন, একটি দূরপাল্লার ট্রেনে সাধারণত ১৫০০ থেকে ২০০০ যাত্রী থাকে। একটি ট্রেনে চেন টানায় সব যাত্রীকেই বিপাকে পড়তে হয়। শুধু তাই নয়, পরপর একাধিক ট্রেনকেও থামিয়ে দিতে হয়।

শাস্তির বিধান

রেলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, হাওড়া - বর্ধমান লাইনে প্রতিদিন গড়ে এই ঘটনা ৪-৫ বার হচ্ছে. অর্থাৎ মাসে প্রায় ১০০ বারেরও বেশি চেন টানার ঘটনা ঘটছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে জরুরি কারণ ছাড়াই চেন টানা হয়েছে, হয় যাত্রীরা দেরি করে স্টেশনে আসা বা পরিচিতদের বাড়ির কাছে নামিয়ে দেওয়ার জন্য যাত্রীদের অনেকেই ট্রেনের চেন টেনে থামিয়ে দিচ্ছে। এই ঘটনাকে রেলের ব্যবস্থার প্রতি চরম অবহেলা বলেও জানিয়েছেন রেলের আধিকারিকরা। ডিআরএম বিশাল কাপুর জানিয়েছেন, কোনও গুরুত্বপূর্ণ বা বৈধ কারণ ছাড়া চেন টানলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে জরিমানা, জেল এবং পরিচয় প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে ছবি দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ। তাঁর কথায়, ‘এটা কোনও দুষ্টুমি নয়, এটা একটি অপরাধ। হাজার হাজার মানুষের যাত্রা বিঘ্নিত করা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’ একই সঙ্গে যাত্রীদের সচেতন করতে মাঠে নেমেছে রেল সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ)। প্ল্যাটফর্মে এবং ট্রেন ছাড়ার আগে মাইকে ঘোষণা করে যাত্রীদের সতর্ক করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, কোনও বিপদ, অগ্নিকাণ্ড, গুরুতর অসুস্থতা বা প্রাণঘাতী পরিস্থিতি ছাড়া চেন টানা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। রেল কর্তৃপক্ষ আরও চাইছে, যাত্রীরা অন্তত ট্রেন ছাড়ার ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছন। এতে তাড়াহুড়ো কমবে এবং বন্ধু বা আত্মীয়দের দিয়ে চেন টানানোর মতো বেআইনি কাজের প্রবণতাও কমবে বলে মনে করছে রেল।

স্বস্তিতে যাত্রীরা

এই উদ্যোগে সাধারণ যাত্রীরাও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। বহু যাত্রীর বক্তব্য, একজনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের জন্য হাজার হাজার মানুষ কেন ভুগবেন? জরুরি কারণ ছাড়া চেন টানা বন্ধ হওয়া উচিত। কেউ কেউ বলছেন, সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছতে না পারায়, বহু বার অফিস, পরীক্ষা বা গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষতি হয়েছে। রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক সিগন্যালিং ও হাই-ডেনসিটি রেলপথে একটি ট্রেন হঠাৎ থেমে যাওয়া, নিরাপত্তায় বড়সড় ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই এই অভ্যেস শুধু যাত্রী ভোগান্তি নয়, রেল নিরাপত্তার পক্ষেও মারাত্মক। সব মিলিয়ে, পূর্ব রেলের এই কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানাচ্ছেন যাত্রী থেকে শুরু করে রেলকর্মী সবাই। এখন দেখার বিষয়, শাস্তি ও সচেতনতার যুগলবন্দিতে এই ‘চেন টানা সংস্কৃতি’ কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে। কারণ, শৃঙ্খলা ফিরলে তবেই দূরপাল্লার রেলযাত্রা হতে পারে আরও নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সময়নিষ্ঠ।