সাত দফার ম্যারাথন লোকসভা ২০১৯-এর ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ। বুথ ফেরত সমীক্ষা ইঙ্গিত দিয়েছে ক্ষমতায় ফিরতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদী। তবে একেবারে সেই প্রচার পর্ব শুরু হওয়ার সময় থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধী বিভিন্ন দল বিজেপির হয়ে কাজ করার অভিযোগ এনে চলেছে। বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল আসার আগেই কংগ্রেস সভাপতিও কমিশনের মাথা ছেঁটে দিয়েছে বিজেপি, বলে মন্তব্য করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু তাঁর একসময়ের রাজনৈতিক গুরু ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় একেবারেই অন্যপথে হাঁটলেন।

একসময় ভোটের দিনগুলোতে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততা থাকত তাঁরই। প্রতিপক্ষকে মাত করার  নানা কলা কৌশল সাজাতে তাঁর চেয়ে ধুরন্ধর মাথা আর কারোর ছিল না। কংগ্রেসের বর্তমান সভাপতি রাহুল গান্ধীও বলতে গেলে তাঁর কাছ থেকেই রাজনীতির পাঠ নিয়েছিলেন। কিন্তু এইবারের লোকসভা নির্বাচনে শুধু ১২ মে তারিখে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে ও সেই ছবি শেয়ার করে ভারতবাসীকে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করা ছাড়া, তাঁকে আর পাওয়া যায়নি।

তবে ভোটগ্রহণ মিটে যাওয়ার পরই মুখ খুললেন তিনি। দেশে নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে যে সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে, তা গণতন্ত্রের পক্ষে কত ভয়ঙ্কর হতে পারে তার চেতাবনি দিলেন ভারতীয় রাজনীতির চানক্য।

এদিন তিনি বলেন, 'কোনো প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে গেলে আমাদের মাথায় রাখতে হবে এই দেশে প্রতিষ্ঠানগুলি খুব সুন্দরভাবে চলছে। সুকুমার সেন থেকে শুরু করে এখনকার নির্বাচন কমিশনার পর্যন্ত, প্রত্যেকে নিখুঁতভাবে নির্বাচন পরিচালনা করেছেন বলেই গণতন্ত্র সাফল্য পেয়েছে।'

নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বিরোধীরা কমিশনের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ এনেছে। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেন একটিও নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ মানা হল না, কেন নির্বাচন সাত দফায় করা হল, কেন 'নমো টিভি'র উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হবে না এইসব প্রশ্নে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য়মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় তো সরাসরি জনসভা থেকে বলেছিলেন কমিশন বিজেপির কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছে।

তবে সব কিছু ছাড়িয়ে গিয়েছে রবিবার ভোটগ্রহণ পর্ব মেটার ঠিক পরেই রাহুল গান্ধীর  একটি টুইট। সেই পোস্টে তিনি বলেছিলেন, বিজেপির হাতে কাটা পড়েছে কমিশনের মাথা। আগে মানুষ নির্বাচন কমিশনকে ভয় পেত, শ্রদ্ধা করতো, এখন আর করে না। তাঁর এই মন্তব্য দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ভেঙে দিতে পারে, বলে তীব্র সমালোচনা হয়েছে। এদিন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি যেন তাঁর পুরনো রাজনৈতিক ছাত্রকেই রাজনীতির আরও এক শিক্ষা দিলেন।