এদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই ৭ কেন্দ্রে ভোট পড়ার হার ছিল নিম্নরূপ -

বনগাঁ - ৭৬.১৮%
বারাকপুর- ৭১.২৮%
হাওড়া- ৬৭.৫৯%
উলুবেড়িয়া- ৭৭.৫৭%
শ্রীরামপুর- ৭৩.৩১%
হুগলি- ৭৬.১৪%
আরামবাগ- ৭৫.৭৩%

ব্যারাকপুর কেন্দ্রে সকাল থেকেই বিভিন্ন বুথে বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। দুই দলের সমর্থকদের সংঘর্ষে ব্যারাকপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং আহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা ভোটারদের ভয় দেখিয়ে বুথে আসতে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অর্জুন সিং। এছাড়া নৈহাটিতে ছাপ্পা ভোটের-ও অভিয়োগ করেন অর্জুন। যে দাবি হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

এছাড়া বড়সড় ঝামেলা হয়েছে হুগলী কেন্দ্রেও। ধনেখালি-তে রাজ্য পুলিশের তত্ত্বাবধানেই ছাপ্পা বোট চলার অভিযোগ করেন বিুজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়। প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এরপর থানায় গিয়ে ধর্নাতেও বসেন লকেট। সেই সময়ই একদল দুষ্কৃতি ওই বুথে ঢুকে পড়ে ইভিএম যন্ত্র ভেঙে দেয়। ফলে ওই বুথের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এলাকায় বাসিন্দাদের জয় শ্রী রাম বলে স্লোগান দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে লকেটের বিরুদ্ধে।

হাওড়ার বালিটিকুরিতে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। ঘটনার সময় তাঁকে কেন্দ্রীয় বাহিনী নানাভাবে হেনস্থা করে, ধাক্কাধাক্কি করে বলে অভিযোগ করেছেন প্রসূন। মধ্য হাওয়াড়ার এক বুথে বিজেপির এক পোলিং এজেন্টকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। নাক-মুখ ফেটে আপাতত তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

একই ভাবে বনগাঁ কেন্দ্রেও বিক্ষিপ্তভাবে আশান্তি হয়েছে। বিজেপির প্রতীক দেওয়া উত্তরীয় গলায় দিয়েই ঠাকুরনগরের এক বুথে ভোট দেন বিজেপি প্রার্থী শান্তনু ঠাকুর। তাঁকে এর জন্য শোকজ করেছে নির্বাচন কমিশন। ওই বুথের প্রিসাইডিং অফিসারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।

আবার শ্রীরামপুরের একটি বুথের বাইরে ভোটারদের ঠান্ডা পানীয় খাইয়ে প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে। কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ওয়ানোর অভিযোগের রিপোর্ট তলব করল কমিশন। তারকেশ্বরে মহারাজা নাগ নামে এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বয়স্কদের হয়ে ভোট দিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন ইভিএম মেশিনের একেবারে সামনে গিয়ে কোন চিহ্নে ভোট দিতে হবে তা বাতলে দিচ্ছিলেন মহারাজা। এই ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন।

এইসব বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ছাড়াও বেশ কয়েকটি বুথে ইভিএম যন্ত্র খারাপ হয়ে গিয়ে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া ব্যহত হয়। শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের রঘুনাথপুর বালিকা বিদ্যালয়ের বুথে, বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের তেঁতুলিয়া অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে, গৌরহাটি কমিউনিটি হলের বুথে, বৈদ্যবাটি ফান্ডামেন্টাল এডুকেশানের দুটি বুথে ও শ্রীরামপুরের চাঁপসরা প্রাথমিক স্কুলের দুটি বুথে ইভিএম মেশিন খারাপ থাকায় দীর্ঘক্ষণ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল।