শুরু হয়ে গিয়েছে গণতন্ত্রের উৎসব। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রের সাধারণ নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ভোট পড়ার শতাংশের হিসেব অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২০১৪সালের নির্বাচনের মতোই ভোট পড়েছে। তবে ভোটের দিনে বাজেয়াপ্ত হওয়া অবৈধ সম্পত্তির পরিমাণ কিন্তু প্রথম দিনেই ছাপিয়ে গিয়েছে আগের বারের ভোটকে।

কমিশনের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে। এই দুই রাজ্যে বিকেল ৫টা পর্যন্ত যথাক্রমে ৮১.৮ শতাংশ ও ৮১ শতাংশ ভোট পড়েছে। পুলওয়ামার ঘটনার পর সকলের নজর ছিল জম্মু কাশ্মীরের উপর। এই রাজ্যে কিন্তু, বেশ দ্রুতই ভোট গ্রহণ পর্ব শেষ হয়ে যায়। জম্মুতে ৭২ শতাংশ ভোট পড়েছে। অপরদিকে সন্ত্রাস-ধ্বস্ত বারামুলায় ভোট পড়ে ৩৫ শতাংশ। ২০১৪ সালে এই অঞ্চলে ভোট পড়েছিল ৩৮.৫ শতাংশ।

জম্মু ও কাশ্মীরে ভোট নির্বিঘ্নে হলেও আরেক উপদ্রুত রাজ্য ছত্তিশগড়ে কয়েকটি হিংসার ঘটনা ঘটেছে। নারায়ণপুরে মাওবাদিরা একটি আইইডি বিস্ফোরণও ঘটায়। কিন্তু তাতে হতাহতের কোনও খবর নেই। মহারাষ্ট্রের মাও-অধ্যুষিত জেলা গড়চিরোলি-তেও এক রাজনৈতিক দলের উপর হামলা করে মাওবাদিরা। এছাড়া অন্ধ্রপ্রদেশে বিরোধী দুই রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও সংঘর্ষ হয়েছে।

এইবারের লোকসভা নির্বাচনেই প্রথমবার প্রতিটি বুথেই 'ভিভিপ্যাট' ব্যবহার করা হচ্ছে। ভোটের প্রথম পর্যায়ে কমিশনের হিসেব অনুযায়ী খুব বেশি যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা যায়নি। ০.৭ শতাংশ ইভিএম ব্য়ালট ইউনিট, ০.৬ শতাংশ ইভিএম কন্ট্রোল ইউনিট ও ১.৭ শতাংশ ভিভিপ্যাট বদলাতে হয়েছে। এছাড়া মোট ১৫টি ইভিএম ভাঙচুড়ের ঘটনা ঘটেছে - অন্ধ্রপ্রদেশে ৬টি, ৫টি অরুণাচলপ্রদেশে, ২টি মণিপুরে ও ১টি করে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে।

অন্ধ্রপ্রদেশে তো ইভিএম ভাঙচুড়ের দায়ে খোদ গুন্টাকল বিধানসভা কেন্দ্রের জনসেনা দলের প্রার্থী মধুসূদন গুপ্তাই গ্রেফতার হয়েছেন। জানা গিয়েছে ইভিএম কাজ না করায় তিনি খেপে গিয়ে আছাড় মেরে ইভিএম যন্ত্রটি ভেঙে দেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে ইভিএম যন্ত্র ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অবাক করেছে ভোটের প্রথম দিনই বাজেয়াপ্ত হওয়া বেআইনি সম্পত্তির পরিমাণ, যা ভোটারদের প্রভাবিত করার অসদ উদ্দেশ্যে কাজে লাগানো হচ্ছিল। কমিশন জানিয়েছে এই রকম বাজেয়াপ্ত হওয়া মোট সম্পত্তির মূল্য ২,৪২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে নগদ রয়েছে ৬০৭ কোটি টাকার। ২০১৪ সালের সবকটি পর্যায় মিলিয়ে বাজেয়াপ্ত হওয়া নগদের পরিমাণ ছিল ৩০৩ কোটি টাকা। ৫ বছর পরের নির্বাচনে একটি পর্যায়েই তা দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে।

নগদ ছাড়া বাজেয়াপ্ত হয়েছে ১৯৮ কোটি টাকার মদ, ১,০৯১ কোটি টাকার মাদক, ৪৮৬ কোটি টাকার সোনা ও ৪৮ কোটি টাকার অন্যান্য সামগ্রি। এই সবই ভোটের সময় ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল।

বৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় না থাকার অভিযোগও উঠেছে বেশ কয়েকটি কেন্দ্র থেকে। ভোটাররা দীর্ঘক্ষণ লাইন দিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার পর দেখেছেন তাঁদের নাম নেই। এই নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন অনেক ভোটার। তাদের জন্য আগেই মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে নাম নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।