চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ফের তৃণমূলকে জোরালো ধাক্কা দিতে চলেছে বিজেপি। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই দিল্লিতে বিজেপি-র সদর দফতরে বেশ কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ক বিজেপি-তে যোগ দিতে চলেছেন বলে খবর। 

বিজেপি-র তরফে দাবি করা হয়েছে, তালিকায় চার থেকে পাঁচজন তৃণমূল বিধায়ক রয়েছেন। যদিও, তাঁদের নাম এখনই প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না। সরাসরি তাঁদের সাংবাদিক বৈঠকে হাজির করানো হবে।

তবে বিজেপি সূত্র থেকেই জানা যাচ্ছে এ দিন সবথেকে বেশি বিধায়ক বিজেপি-তে যোগ দিতে পারে বীরভূম জেলা থেকে। শোনা যাচ্ছে লাভপুরের তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলাম, দুবরাজপুরের তৃণমূল বিধায়ক নরেশ বাউরি আজ বিজেপি-তে যোগ দিতে পারেন। এ ছাড়াও নদিয়ার শান্তিপুরের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্যও এ দিন বিজেপি-তে যোগ দিতে চলেছেন বলে খবর। অরিন্দমবাবু ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম এবং কংগ্রেস জোটের হয়ে জিতলেও পরে দলবদলে তৃণমূলে যোগ দেন। এই তিনজন ছাড়াও আরও কয়েকজন বিজেপি-তে যোগ দিতে পারেন বলে খবর।

মঙ্গলবারই বীজপুরের তৃণমূল বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় ছাড়াও হেমতাবাদ এবং বিষ্ণুপুরের বিধায়ক বিজেপি-তে যোগ দেন। হেমতাবাদ কেন্দ্রটি সিপিএমের দখলে থাকলেও বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তুষারকান্তি ভট্টাচার্য কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। এ ছাড়াও হালিশহর, কাঁচরাপাড়া, নৈহাটি-র অধিকাংশ কাউন্সিলররাই মঙ্গলবার দিল্লিতে মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপি-তে যোগ দেন। 

মঙ্গলবারই মুকুল রায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর শপথ হয়ে গেলেই দিল্লিতে বিজেপি-র দফতরে তৃণমূল বিধায়কদের যোগ দেওয়ার লাইন লেগে যাবে। আর বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র দাবি ছিল, বাংলায় যেভাবে সাত দফায় নির্বাচন হয়েছে, সেভাবেই দফায় দফায় বিজেপি-তে যোগদান করবেন তৃণমূল বিধায়করা। 

এ বারের লোকসভা নির্বাচনে বীরভূমের দু'টি আসনেই তৃণমূল জিতলেও জেলার অনেক জায়গাতেই বিজেপি-র তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে শাসক দল। যদিও তাঁকে গুরুত্ব দিতে চাননি দলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু তাঁর জেলা থেকেই একাধিক বিধায়ক বিজেপি-তে গেলে কেষ্টর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে বাধ্য।