ফের তৃণমূলে ভাঙন ধরানোর হুঁশিয়ারি মুকুল  রায়ের। এবার তাঁর দাবি, এখনই বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার জন্য দশজন তৃণমূল বিধায়ক তৈরি রয়েছেন। শুধু তাই নয়, সদ্য তৃণমূলের টিকিটে জেতা সাংসদ থেকে শুরু করে বাংলায় শাসক দলের তাবড় নেতারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে দাবি করেছেন মুকুল। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ২০২১-এর আগেই সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। 

ভোটের ফল বেরনোর পরে দুই তৃণমূল বিধায়ক-সহ বাংলার মোট চার বিধায়ক মুকুলের হাত ধরে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছেন তাঁর ছেলে শুভ্রাংশুও। বীরভূম জেলাতেও তৃণমূলকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছেন মুকুল। তার লক্ষ্য যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতাচ্যুত করা, এ দিনও তা বুঝিয়ে দিয়েছেন এই বিজেপি নেতা। 

মুকুলের কথায়, "আমার কাছে এখনই দশজন বিধায়ক রয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই ২০২১ না ২০২০ তাই নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কবে নির্বাচন হবে, দেখা যাক।"

২০২১-এর আগেই আগামী বছর বাংলায় পুরসভা নির্বাচন রয়েছে। যদিও সেই নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কয়েকদিন আগেই যার কমিশনার হিসেবে পঞ্চায়েত দফতরের প্রাক্তন সচিব সৌরভ দাসকে বসিয়েছে রাজ্য সরকার। মুকুলের অভিযোগ, "যিনি পঞ্চায়েত ভোটে জবরদখলের ব্লু প্রিন্ট তৈরি করেছেন, সেই সৌরভ দাসকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করব হবে যাতে পুর নির্বাচনেও কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকে।" পুর ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবিতে প্রয়োজনে আদালতে যাবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন মুকুল। 

বীরভূমের লাভপুরের তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলাম বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার ওই জেলার বিজেপি কর্মীদের মধ্যেই ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মুকুলের অবশ্য দাবি, "কর্মীদের ভাবাবেগ, আদর্শ, ত্যাগের সঙ্গে আপোস করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। কাকে নিলে ভাল হবে, কাকে নিলে হবে না, সেটা আমি ভাল বুঝি। রণনীতি, রণকৌশলের সঙ্গে কর্মীদের ভাবাবেগ, আদর্শের কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"

এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করেই মুকুল বলেন, "তৃণমূলের বহু প্রভাবশালী নেতা, নির্বাচিত সাংসদ আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সবাই আস্তে আস্তে যোগদান করবেন, দেখতে থাকুন। বুকের ব্যথা একদিন হলো, ডাক্তার দেখিয়ে সেরে গেল, তাতে কী লাভ। বুকের ব্যথাটা যাতে বাড়ে, সেটাই করছি।"