শেষ দফার নির্বাচনের আগে একসঙ্গে সাংবাদিকদের সামনে এলেন নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ। মোদীকে পাশে বসিয়েই অমিত শাহ দাবি করলেন, আবারও পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার। বিজেপি সভাপতির তো দাবি, বিজেপি একাই তিনশোর বেশি আসন পাবে। বিজেপি সভাপতির দাবি, গত পাঁচ বছরে সাংগঠনিকভাবেও আরও শক্তিশালী হয়েছে বিজেপি। গরিব মানুষের কাছে নরেন্দ্র মোদী সরকার একের পর এক জনমুখী প্রকল্প পৌঁছে দেওয়াতেই তা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন বিজেপি সভাপতি। কৃষি থেকে প্রযুক্তি, সবক্ষেত্রেই মোদী সরকার উন্নতি করেছে বলে দাবি করেছেন অমিত শাহ। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, দলিত, আদিবাসীদের জন্য সমানভাবে কাজ করেছে। মোদীর হাত ধরে দেশ সুরক্ষিত বলেও ফের দাবি করেছেন বিজেপি সভাপতি। নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরেই গত পাঁচ বছরে দেশের আর্থিক অগ্রগতির হার অব্যাহত থেকেছে বলেই দাবি করেন অমিত শাহ।

প্রধানমন্ত্রী যখন সাংবাদিক বৈঠক করছেন অমিত শাহকে পাশে বসিয়ে, সেই একই সময়ে সাংবাদিক সম্মেলন করতে বসেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী। সাংবাদিক বৈঠক থেকেই প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "পাঁচ বছর পর ভোটের ফল বেরনোর চার-পাঁচ দিন আগে অবশেষে সাংবাদিক বৈঠক করছেন। এ তো নজিরবিহীন ঘটনা।" এর পরেই নিজের সাংবাদিক বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন রাহুল। তিনি বলেন, "নরেন্দ্র মোদীজি আমায় বলুন, রাফাল দুর্নীতি নিয়ে কেন আপনি আমার প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন না? আপনি কেন অনিল অম্বানীকে তিরিশ হাজার কোটি টাকা পাইয়ে দিলেন? এই প্রশ্নগুলির জবাব আমাকে দিন। আমি তো আপনার বাসভবনে এসেও আপনার মুখোমুখি হতে রাজি ছিলাম।" একই সঙ্গে রাহুল বলেন, কংগ্রেস এই নির্বাচনে দারুণভাবে লড়েছে। গত লোকসভা ভোটে আসন কম পেলেও এই পাঁচ বছরে বিরোধী দল হিসেবে কংগ্রেস যথাযথ ভূমিকা পালন করে নরেন্দ্র মোদীর যাবতীয় চাল ভেস্তে দিয়েছে বলে দাবি করেন রাহুল। পরবর্তী সময়ে অবশ্য বিজেপি-র সাংবাদিক বৈঠক থেকে অমিত শাহ এই প্রশ্নের জবাব দিয়ে বলেন, রাহুল গাঁধীর কাছে তথ্য থাকলে তিনি তো সুপ্রিম কোর্টকে দিয়ে সাহায্য করতে পারতেন! অহেতুক অভিযোগ করে কারো গায়ে কালির ছিঁটে লাগানোর চেষ্টা করলে জনতাই তার জবাব দেয়।

দাবি পাল্টা দাবিতে এ দিন প্রকৃত অর্থেই জমে ওঠে মোদী-শাহ এবং রাহুল গাঁধীর সাংবাদিক বৈঠক। একদিকে যখন মোদীকে পাশে বসিয়ে অমিত শাহ বোঝানোর চেষ্টা করছেন, কীভাবে 'চৌকিদার' শব্দটি মোদীর সততার জন্যই জনপ্রিয় হয়েছে, তখন পাল্টা রাহুল কটাক্ষ করে বলেছেন, এখন 'চৌকিদার' শুনলেই দেশের মানুষ  বলছে 'চোর হ্যাঁয়'।

এ দিন বিজেপি-র সাংবাদিক বৈঠকে অবশ্য প্রথম দিকে অমিত শাহই নরেন্দ্র মোদীর স্তূতিতে অনেকটা সময় ব্যয় করেন অমিত শাহ। এর পরে বক্তব্য শুরু করতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পাঁচ বছর ক্ষমতায় আসার পরে সম্ভবত এই প্রথমবার ফের একই দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করতে চলেছে। আত্মবিশ্বাসী মোদী বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন, তিনি ক্ষমতায় ফিরছেনই। মোদীর কথায়, আগে একটি পরিবার ঠিক করত কে সরকার গড়বে, এখন জনতা ঠিক করে। মোদী তো এও বলে দেন, ভোটের ফল বেরোলেই যত দ্রুত সম্ভব তাঁর সরকার ফের কাজ শুরু করে দেবে।

এ দিন নিজের সরকারের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে আইপিএল, রমজান মাসের কথাও টেনে এনেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পাঁচ বছর আগে ভোটের জন্য আইপিএল দেশের বাইরে করতে হয়েছিল। আর এখন ভোট, আইপিএল, রমজান, পরীক্ষা সব একসঙ্গে হচ্ছে। 

এ বারের নির্বাচনের প্রচারের মাঝখানেই রাজীব গাঁধীকে সবথেকে বড় দুর্নীতিবাজ বলে আক্রমণ করেছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও কথার লড়াইতে জড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আবার মায়াবতীর মতো কেউ কেউ নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধেই ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য তার পরেও এ দিন বলেছেন, ইতিবাচক মনোভাবের সঙ্গেই এ বারের ভোট হয়েছে।

এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে ফের একবার বাংলায় রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ ওঠে। অমিত শাহের পাল্টা প্রশ্ন, "বাংলায় বিজেপি-র আশিজন কর্মী মারা গিয়েছেন। আমরা তো গোটা দেশে লড়ছি, কেরল, তামিলনাড়ু কোথাও তো এমন হচ্ছে না। তাহলে বাংলায় কেন হচ্ছে? উনি তো শুধু বাংলায় লড়ছেন, আর আমরা সব জায়গায় লড়ছি। তাহলে কে দোষী? আপনারা পাল্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই প্রশ্নটা করুন।" এ দিন অন্যান্য রাজ্যে ভাল ফলের কথা বললেও বাংলায় খুব ভাল ফল হবে বলে দাবি করেন অমিত শাহ।

এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকেও অবশ্য প্রধানমন্ত্রী নিজের বক্তব্যটুকু রাখার বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর  দেননি। সব প্রশ্নের উত্তর দেন অমিত শাহ। সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করতে চাইলে নরেন্দ্র মোদী বলেন, "আমাদের দলে অধ্যক্ষই সব।"