বিভিন্ন সংস্থার এক্সিট পোলে সংখ্যার তারতম্য হলেও, নরেন্দ্র মোদীই যে ক্ষমতায় ফিরছেন এই বিষয়ে সবাই একমত। আর এই ফলাফল প্রকাশের পরই সোমবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে বলা যেতে পারে ঢেউ উঠল। সবচেয়ে বাড়ল আর্থিক সংস্থাগুলির শেয়ারের দর। কিছুটা লাভ করল ভারতীয় টাকাও।

কর্মসংস্থানের অভাব থেকে কৃষি পণ্যের নায়্যমূল্য না পাওয়া - এইরকম বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমালোচনারর মুখে পড়তে হয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে। কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে চলতি বছরের শুরুতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকে, নরেন্দ্র মোদী সুকৌশলে প্রচারের মুখ ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন দেশের নিরাপত্তার দিকে। তা যে খেটে গিয়েছে, এক্সিট পোলের ফলাফলই তার প্রমাণ।

আর এরপরই ভারতীয় শেয়ার বাজারে এর প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে। এদিন বাজার খোলার সময় এনএসই নিফটি ইন্ডেক্স রবিবারের তুলনায় ২.২২ শতাংশ বেড়ে ১১,৬৬০.৪৫ -এ ছিল। আর বিএসই ইনডেক্সও ২.০২ শতাংশ বেড়ে এদিন শুরু করে ৩৮,৮০৭.৮৮ পয়েন্টে। এমনকী সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ভারতের এনএসই স্টক ফিউচার্স-ও এদিন ২.০২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই বৃদ্ধির পিছনে মূল কৃতিত্ব আর্থিক সংস্থাগুলির। এই ক্ষেত্রে সবার আগে আছে ইয়েস ব্যাঙ্ক লিমিটেড, বৃদ্ধি হয়েছে ৬.২ শতাংশ। তারপরেই রয়েছে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া লিমিটেড। তাদের ইন্ডেক্স বৃদ্ধি হয়েছে ৫.৪ শতাংশ।

তবে নিফটির আইটি সংস্থাগুলির ইন্ডেক্স ১ শতাংশ পড়েছে। এর জন্য মূলত ইনফোসিসের ইন্ডেক্সের ১.৩ শতাংশ পড়ে যাওয়াই দায়ী।

লাভ করেছে ভারতীয় টাকাও। দিনের শুরুতে ডলার প্রতি টাকার দাম কমে ৬৯.৩৫৫০ তে পৌঁছেছিল। পরে অবশ্য ৬৯.৪৯-এ থিতু হয়। শুক্রবার বাজার বন্ধের সময় এই বিনিময় মূল্য ছিল ৭০.২২। টাকা আরও লাভ করবে নাকি দাম ফের পড়ে যাবে তা নির্ভর করছে স্টক মার্কেটে ফ্লো কেমন থাকবে তার উপরই।

তবে এতে এখনই আশান্বিত নয় সংশ্লিষ্ট মহল আর্থিক বিনিয়োগ পরামর্শদাতারা বলছেন, ভারতীয় অর্থনীতি আপাতত একটি 'রাফ প্যাচ' বা খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। স্টক মার্কেটে মোদী ফেরার জল্পনায় যে বৃদ্ধি সোমবার লক্ষ্য করা গিয়েছে, তা আগামী আরও ৩-৪ দিন দেখা যেতে পারে। কিন্তু ফলাফল ঘোষণার পর এক্সিট পোলের ফল মিলেও গেলেও খুব একটা বৃদ্ধি হবে বলে তাঁরা মনে করছেন না। তাঁদের মতে নতুন সরকার তাদের নীতি ঘোষণা করলে তারপরেই বিনিয়োগের পালে বাতাস লাগতে পারে। তার আগে নয়।