দু' জনের 'সুসম্পর্কের' কথা দল তো বটেই, আমজনতারও অজানা নয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বারাসতের তৃণমূল প্রার্থী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে ফের প্রকাশ্য মতবিরোধে জড়ালেন দলের বিধাননগরের মেয়র এবং বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে কাকলি যখন থানায়  ধর্না দিচ্ছেন, তখন সেই বাহিনীরই দরাজ প্রশংসা শোনা গেল সব্যসাচী দত্তের গলায়। 

রবিবার শেষ দফার ভোটে বারাসত বিধানসভার অন্তর্গত নিউ টাউনের বিভিন্ন অংশে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা সাধারণ মানুষের উপরে অত্যাচার চালিয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন কাকলি। তাঁর দাবি, জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিয়ে ভোটারদের বিজেপি-তে ভোট দেওয়ার জন্য প্রভাবিত করছে বাহিনীর জওয়ানরা। এমন কী, তৃণমূলের ফ্লেক্স, ব্যানারও ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ তৃণমূল প্রার্থীর। এর প্রতিবাদে নিউ টাউন থানায় গিয়ে কার্যত ধর্নায় বসেন তিনি। পুলিশকর্মীদের উপরেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

ঘটনাচক্রে নিউ টাউনের যে অংশ বারাসত লোকসভার মধ্যে পড়ে, তার বিধায়কও সব্যসাচী। এ দিন ভোট দিতে এসে ধর্নায় বসা নিয়ে কাকলিকে সরাসরি বেঁধেন তিনি। বিধাননগরের মেয়র বলেন, "প্রত্যেকের স্বাধীনতা আছে, ওনার যদি মনে হয় কিছু বেআইনি হয়েছে, উনি প্রতিবাদ করতেই পারেন। কিন্তু থানাটা তো রাজ্য সরকারের, আর রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমার তো মনে হয় না উনি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ধর্নায় বসবেন।"

এর পরেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সব্যসাচী বলেন, "তাঁরা ভালভাবেই ভোট পরিচালনা করেছেন, সুস্থভাবে ভোট হয়েছে, মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছে।"

প্রসঙ্গত সব্যসাচীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েই জল্পনা তুঙ্গে। ভোটের আগেই তাঁর বাড়িতে মুকুল রায়ের যাওয়া নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। এ নিয়ে দলের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকেও বসতে হয় বিধাননগরের মেয়রকে। তার পরেও দলের মধ্যে তাঁর অবস্থান কী, তা নিয়ে তৃণমূলের মধ্যেই অনেকে সন্দিহান। এ সব কিছুর উত্তরই হয়তো পাওয়া যাবে ২৩ শে মে-র পর। তার মধ্যে গোটা তৃণমূল যখন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমালোচনায় সরব, তখন সেই বাহিনীর প্রশংসা করে ফের যেন কিছুটা বেসুরো গাইলেন বিধাননগরের মেয়র।