বাংলার তিন দলের তিন বিধায়ক যোগ দিলেন বিজেপি-তে। একই সঙ্গে হালিশহর, কাঁচরাপাড়া এবং নৈহাটি পুরসভার অধিকাংশ কাউন্সিলরই যোগ দিলেন বিজেপি-তে। দিল্লিতে বিজেপি-র সদর দফতরে এই যোগদান পর্ব অনুষ্ঠিত হল। 

তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পরে মুকুল পুত্র শুভ্রাংশুর বিজেপি-তে যোগদান একরকম নিশ্চিতই ছিল। এ দিন দিল্লিতে গিয়ে বিজেপি-তে যোগদান করে সেই জল্পনায় অবসান ঘটালেন বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশু। তাঁর সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুকুল রায়ও। এছাড়াও মুকুলের হাত ধরে বিজেপি-তে গেলেন বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তুষারকান্তি ভট্টাচার্য। ২০১৬ সালের নির্বাচনে তিনি কংগ্রেসের টিকিটে জিতলেও পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। এছাড়াও হেমতাবাদের সিপিএম বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ও এ দিন বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন।

এই তিন বিধায়কের সঙ্গেই হালিশহর, কাঁচরাপাড়া এবং নৈহাটি পুরসভাও এ দিন কার্যত দখল করে নিল বিজেপি। এই তিন পুরসভার অধিকাংশ কাউন্সিলরই এ দিন দিল্লিতে গিয়ে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন। মুকুল বলেন, "কাঁচরাপাড়া পুরসভায় মোট আসন রয়েছে ২৪টি। তার মধ্যে এ দিন বিজেপি-তে যোগ দিলেন পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান সহ মোট ১৭জন কাউন্সিলর। হালিশহর পুরসভায় ২৩ জন কাউন্সিলরের মধ্যে চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান সহ ১৭ জন কাউন্সিলরই বিজেপি-তে যোগ দিলেন। নৈহাটি পুরসভার ৩১জন কাউন্সিলরের মধ্যে ২৯জনই বিজেপি-তে যোগ দিলেন বলে দাবি করেছেন মুকুল।" তাঁর ছেলে কেন এত দেরিতে বিজেপি-তে যোগ দিলেন, সেই প্রশ্নের জবাবে মুকুল বলেন, " আমি তো আগেই বলেছিলাম, থাকবে তৃণমূলে, কাজ করবে বিজেপি-র। ধরে নিন এটা রাজনৈতিক কৌশল।" মুকুলের হুঁশিয়ারি, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় তৃণমূল বিরোধী দলের মর্যাদা পাবে না। যদিও বাংলায় বিধায়ক কেনাবেচার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মুকুল। তাঁর দাবি, বাংলায় ঘোড়া কেনাবেচা করেন মমতাই। 

এছাড়াও ভাতার এবং খানাকুলের বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েতও এ দিন দখল বিজেপি দখল করেছে বলে দাবি করেছেন মুকুল রায়। তাঁর আরও দাবি, নরেন্দ্র মোদীর শপথ গ্রহণের পরেই বিজেপি-তে যোগদানের জন্য তৃণমূল বিধায়কদের লাইন লেগে যাবে।

বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেন, বাংলায় যেমন সাত দফায় ভোট হয়েছে, সেরকমই এবার থেকে প্রতি মাসে দফায় দফায় তৃণমূল থেকে বিজেপি-তে যোগদান করবেন তৃণমূল বিধায়ক এবং নেতারা। যদিও তাঁর দাবি, সবাইকে নয়, যাঁরা বিজেপি-তে যোগদান করার যোগ্য, তাঁদেরকেই দলে নেবে বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে কৈলাস বলেন, "আমরা তো ২০২১ সালেই বিধানসভা ভোটে জিতে বাংলায় ক্ষমতায় আসতে চাই। কিন্তু তার আগেই যদি মমতার বিধায়করা তাঁকে ছেড়ে আমাদের কাছে চলে আসেন, তাহলে আমাদের কিছু করার নেই।"