বৃহস্পতিবার ভোট ফল যখন অনেকটাই স্পষ্ট, দুপুরের দিকে তখন টুইটারে একটি ছোট্ট প্রতিক্রিয়া। তার পর থেকে আর ভোটের ফলাফল নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি যে বাংলায় কতখানি ধাক্কা তৃণমূল এবং মমতাকে দিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর এ হেন আচরণেই তা অনেকটা স্পষ্ট। 

মুখ্যমন্ত্রী ভোটের ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া না দিলেও অবশেষে রাজ্যে বিজেপি-র উত্থান নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূল নেত্রীর অন্যতম আস্থাভাজন নেতা তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। গোটা দেশে এবং রাজ্যে বিজেপি-র দুর্দান্ত ফলের জন্য নিজেদের ব্যর্থতার থেকেও মোদী হাওয়া এবং টাকার জোরকেই দায়ী করেছেন তিনি।

লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয় এবং বিজেপি-র বাংলায় দুর্দান্ত ফল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফিরহাদ বলেন, "কিছুটা সাম্প্রদায়িক প্রচার তো ছিলই। তার সঙ্গে আমাদের সাংগঠনিক ব্যর্থতাও ছিল কিছু জায়গায়। আর তাছাড়া সারা দেশেই একটা মোদী হাওয়া তো ছিলই।" এবারের নির্বাচনে অনেক জায়গাতেই তৃণমূল অন্তর্ঘাতের ফল ভোগ করেছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। বহু জায়গাতেই দলের গোষ্ঠী কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। সাংগঠনিক দুর্বলতা বলে ফিরহাদ আসলে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। 

বাংলায় এই ফলের উপর ভিত্তি করে বিজেপি ২০২১ সালে রাজ্য বিধানসভা দখল করতে ঝাঁপাতে চাইছে। সেই সম্ভাবনা যে যথেষ্ট জোরালো, এই ফলের পরে তা নিয়ে আমজনতা থেকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ, কারও মনেই সংশয় নেই। এই দাবি অবশ্য মানতে নারাজ ফিরহাদ হাকিম। পুরমন্ত্রীর কথায়, "এই ফল নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করব, ব্যবস্থা নেব। তার পর দেখবেন আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আর এরকম ফল হবে না, আমরাই জিতব।"

এর পরেও অবশ্য বিজেপি-র বিরুদ্ধে টাকা ছড়িয়ে ভোটে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন ফিরহাদ। তাঁর কথায়, "এমন অনেক কেন্দ্র রয়েছে যেখানে আমরা প্রচুর উন্নয়ন করেছি, তা নিয়ে প্রচারও করেছি। কিন্তু সেই আসনগুলির ফল আমাদের পক্ষে যায়নি। কারণ সব জায়গাতেই বিজেপি-র একটা টাকার খেলা ছিল। আমরা মানুষের শুভবুদ্ধির উদয় হওয়ার জন্য অপেক্ষা করব।"