- Home
- Entertainment
- Aishwarya Rai Bachchan: 'দেবদাস' থেকে 'ধুম ২'! জন্মদিনে ফিরে দেখা ঐশ্বর্যর সেরা ১০ অনস্ক্রিন লুক
Aishwarya Rai Bachchan: 'দেবদাস' থেকে 'ধুম ২'! জন্মদিনে ফিরে দেখা ঐশ্বর্যর সেরা ১০ অনস্ক্রিন লুক
'দেবদাস'-এর পারোর শাড়ি থেকে 'যোধা আকবর'-এর রাজকীয় সাজ কিংবা 'ধুম ২'-এর গ্ল্যামারাস সুনেহরি। বড় পর্দায় ঐশ্বর্য রাই বচ্চন বারবার তাঁর আইকনিক লুকে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক তাঁর সেরা ১০টি অনস্ক্রিন লুক।

ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের জন্মদিন
ঐশ্বর্য রাই বচ্চন শুধু তাঁর অভিনয় দিয়েই নয়, নিজের স্টাইল স্টেটমেন্ট দিয়েও ভারতীয় সিনেমায় গভীর ছাপ ফেলেছেন। বছরের পর বছর ধরে তিনি ট্র্যাডিশনাল পোশাক, রাজকীয় সাজ, আধুনিক ফ্যাশন এবং ছিমছাম লুকে নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরেছেন।
পর্দায় ভগ্নহৃদয় প্রেমিকা, মুঘল রানি বা আত্মবিশ্বাসী আধুনিক নারী—যে চরিত্রেই তিনি অভিনয় করেছেন, দর্শকদের উপহার দিয়েছেন মনে রাখার মতো ফ্যাশন মুহূর্ত। ১ নভেম্বর তাঁর জন্মদিনে রইল এমন ১০টি অনস্ক্রিন লুকের ঝলক, যা আজও সিনেমাপ্রেমী ও ফ্যাশন উৎসাহীদের অনুপ্রাণিত করে।

দেবদাস: পারোর টাইমলেস বাঙালি শাড়ি লুক
সঞ্জয় লীলা বনশালির 'দেবদাস' ছবিতে পারো চরিত্রে ঐশ্বর্যর অভিনয় এবং তাঁর লুক কেরিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ। তাঁর ট্র্যাডিশনাল শাড়ি, ভারী গয়না এবং সুন্দর হেয়ারস্টাইল চরিত্রটিকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছিল।
'ডোলা রে ডোলা' গানে তাঁর লাল-সাদা শাড়ির লুকটি রীতিমতো আইকনিক হয়ে ওঠে। পাশাপাশি বিয়ের পর পারোর নীল শাড়ির লুকটিও দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এই পোশাকগুলো ছবির সময়কাল এবং পারোর আবেগের যাত্রাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছিল।
যোধা আকবর
আশুতোষ গোয়ারিকরের পিরিয়ড ড্রামা 'যোধা আকবর'-এ যোধা বাঈয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বর্য। তাঁর জমকালো পোশাকগুলো মুঘল দরবার এবং রাজপুত ঐতিহ্যের রাজকীয় আভিজাত্যকে দারুণভাবে তুলে ধরেছিল।
ভারী কাজের লেহেঙ্গা থেকে শুরু করে কুন্দন জুয়েলারি, ট্র্যাডিশনাল গয়না এবং কারুকাজ করা দোপাট্টা—সব কিছুই তাঁর রাজকীয় লুকে অন্য মাত্রা যোগ করেছিল। তাঁর এই পোশাকগুলো ছবির ভিজ্যুয়াল আবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
হাম দিল দে চুকে সনম
১৯৯৯ সালের রোমান্টিক ড্রামা 'হাম দিল দে চুকে সনম'-এ নন্দিনী চরিত্রে এক প্রাণবন্ত আকর্ষণ যোগ করেছিলেন ঐশ্বর্য। তাঁর রঙিন ট্র্যাডিশনাল পোশাক, চনমনে স্টাইলিং এবং গয়না চরিত্রটির হাসিখুশি স্বভাবকে ফুটিয়ে তুলেছিল।
'নিম্বুড়া' এবং 'আঁখো কি গুস্তাখিয়াঁ' গানে তাঁর লুক আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। উজ্জ্বল এথনিক ফ্যাশনকে তিনি কতটা অনায়াসে ক্যারি করতে পারেন, এই ছবি তারই প্রমাণ।
ধুম ২
পর্দায় নিজের চেনা ট্র্যাডিশনাল লুক থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসে 'ধুম ২'-এ সুনেহরি চরিত্রে ধরা দেন ঐশ্বর্য। এই ছবি দর্শকদের তাঁর এক আধুনিক এবং গ্ল্যামারাস রূপের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছিল।
তাঁর ফ্যাশনেবল পোশাক, ওয়েস্টার্ন সিলুয়েট এবং আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি চরিত্রটিকে আলাদা মাত্রা দেয়। বিশেষ করে 'ক্রেজি কিয়া রে' গানে তাঁর লুকটি ছবির অন্যতম চর্চিত ফ্যাশন মুহূর্ত হয়ে ওঠে। হৃতিক রোশনের সঙ্গে তাঁর কেমিস্ট্রি এই আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
চোখের বালি
ঋতুপর্ণ ঘোষের বাংলা ছবি 'চোখের বালি'-তে বিনোদিনীর চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বর্য। চরিত্রটি ছিল এক তরুণী বিধবার, যে জটিল সম্পর্ক এবং সামাজিক প্রত্যাশার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলে।
তাঁর গ্ল্যামারাস মেনস্ট্রিম চরিত্রগুলোর ঠিক উল্টোদিকে হেঁটে এই ছবিতে তাঁকে একেবারে ছিমছাম লুকে দেখা যায়। সাধারণ শাড়ি, নামমাত্র গয়না এবং স্বাভাবিক স্টাইলিং গল্পের সামাজিক প্রেক্ষাপটকে তুলে ধরেছিল। এই আন্ডারস্টেটেড লুক বিনোদিনীর চরিত্রের মানসিক জটিলতাকেও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে।
তাল
সুভাষ ঘাইয়ের মিউজিক্যাল রোমান্টিক ড্রামা 'তাল'-এ মানসী চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বর্য। চরিত্রটি ছিল গান ও নাচের প্রতি আগ্রহী এক তরুণীর।
এই ছবিতে তাঁর লুকে ট্র্যাডিশনাল স্টাইলিং এবং ছিমছাম আধুনিক ফ্যাশনের দারুণ ব্যালেন্স দেখা যায়। 'তাল সে তাল মিলা' গানে তাঁর সাদা পোশাকের লুকটি আজও অন্যতম সেরা। তাঁর পোশাকগুলো চরিত্রের ওপর থেকে ফোকাস না সরিয়েই ছবির মিউজিক্যাল মেজাজের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে গিয়েছিল।
অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল
করণ জোহরের 'অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল' ছবিতে সাবা তালিয়ার খানের চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বর্য। এক আত্মবিশ্বাসী এবং রুচিশীল কবির চরিত্রে তিনি পর্দায় এক দারুণ আধুনিক নান্দনিকতা নিয়ে আসেন।
তাঁর ওয়ার্ড্রোবে ছিল স্টাইলিশ ড্রেস, এলিগ্যান্ট কোট এবং মডার্ন সিলুয়েট। আগের ছবিগুলোর ট্র্যাডিশনাল পোশাকের তুলনায় এই চরিত্রের পলিশড লুক একেবারেই আলাদা ছিল। অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশনেও তাঁর এই বৈচিত্র্য দর্শকদের মুগ্ধ করে।
উমরাও জান
জে পি দত্তর ২০০৬ সালের পিরিয়ড ড্রামায় বিখ্যাত বাইজি এবং কবি উমরাও জানের চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বর্য। চরিত্রটির জন্য পুরনো লখনউয়ের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে মানানসই এক বিশেষ লুকের প্রয়োজন ছিল।
তাঁর ভারী কাজের আনারকলি, সুন্দর দোপাট্টা, ট্র্যাডিশনাল গয়না এবং নিখুঁত স্টাইলিং সেই যুগের আভিজাত্যকে ফুটিয়ে তুলেছিল। পোশাকগুলো ছবির পিরিয়ড আবহ তৈরি করতে সাহায্য করে, আর ঐশ্বর্যর সাবলীল উপস্থিতি চরিত্রটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
রেনকোট
ঋতুপর্ণ ঘোষের 'রেনকোট' ছবিতে নীরজা চরিত্রে ঐশ্বর্যর লুক তাঁর চেনা গ্ল্যামারাস ইমেজের চেয়ে একেবারেই আলাদা ছিল।
তাঁর সাধারণ শাড়ি, নামমাত্র মেকআপ এবং ছিমছাম স্টাইলিং ছবির অন্তরঙ্গ গল্প বলার ধরনকে ফুটিয়ে তুলেছিল। এই সংযত লুকটি চরিত্রের মানসিক গভীরতার সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায়। ভারী পোশাক বা জমকালো স্টাইলিং ছাড়াও যে তিনি পর্দায় গভীর ছাপ ফেলতে পারেন, তা এই ছবিতেই প্রমাণ করেছিলেন ঐশ্বর্য।
Entertainment News ( বাংলা বিনোদনের খবর ): Read Entertainment News including movie reviews, Trailers, Celebrity gossips, TV shows and other Entertainment News in at Asianet News Bangla.