অমিতাভ বচ্চন তাঁর কৃষ্ণ-সম্পর্কিত একটি পোস্ট বিকৃত করার জন্য সংবাদমাধ্যমের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, তাঁর কথাগুলো ছিল ভক্তিমূলক, কোনো রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি নয়। দায়িত্বজ্ঞানহীন রিপোর্টিং নিয়ে তিনি চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন।
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন সম্প্রতি তাঁর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের অর্থ বিকৃত করার জন্য সংবাদমাধ্যমের একাংশকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। ৮৪ বছর বয়সী এই সুপারস্টার সাফ জানিয়েছেন, তাঁর ওই কথাগুলো ছিল ভগবান কৃষ্ণের প্রতি ভক্তি থেকে লেখা। বিরোধীদের প্রতি কোনো রাজনৈতিক বার্তা বা হুঁশিয়ারি দেওয়া তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। চরম বিরক্তি প্রকাশ করে বিগ বি অভিযোগ করেছেন, স্রেফ নজর কাড়তে কিছু মিডিয়া তাঁর কথাগুলোকে ভুলভাবে তুলে ধরেছে।
মিডিয়া রিপোর্টের কড়া জবাব অমিতাভের
বচ্চন নিজের ব্যক্তিগত ব্লগে এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি সরাসরি সংবাদমাধ্যমগুলোকে নিশানা করে তাদের ব্যাখ্যার কড়া সমালোচনা করেছেন। হিন্দিতে লেখা ওই পোস্টে তিনি বলেন, "কান খুলে শুনে রাখো মিডিয়াওয়ালারা!! আমার ফলোয়ার সংখ্যা ৫০ মিলিয়ন। যেদিন আমি শুধু একটা ইশারা করব, তাদের মধ্যে অন্তত ১০ শতাংশ লোক তোমাদের শায়েস্তা করতে তৈরি বসে আছে।"
তাঁর এই কথা থেকেই পরিষ্কার, অনুরাগীদের কাছ থেকে তিনি কতটা বিশাল সমর্থন পান। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁর একটা ইশারাতেই এই বিশাল ফ্যানবেস যেকোনো সমালোচনার কড়া জবাব দিতে পারে।
মিডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন বিগ বি-র
সমালোচনার সুর আরও চড়িয়ে অভিনেতা ওই নির্দিষ্ট মিডিয়া পোর্টালটিকে দেশের 'ফিফথ কলাম' বা গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত বলে কটাক্ষ করেছেন। সঠিক খবর পরিবেশন না করে যারা কথা বিকৃত করে, সেইসব সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সম্মান নিয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।
বচ্চন মেনে নিয়েছেন যে, সাংবাদিকতায় ভুল হতেই পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সংবাদমাধ্যমগুলোর উচিত নিজেদের ভুল স্বীকার করা, ক্ষমা চাওয়া এবং তা শুধরে নেওয়া। মিডিয়ার একাংশের মধ্যে এই দায়বদ্ধতার অভাব দেখে তিনি চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন।
'নিজেকে ভুক্তভোগী বলব না'
পোস্টের শেষে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে মেগাস্টার জানিয়েছেন, আঘাত পেলেও তিনি নিজেকে কোনোভাবেই 'ভিকটিম' বা ভুক্তভোগী বলতে রাজি নন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, তাঁর এই কষ্ট একান্তই ব্যক্তিগত এবং মিডিয়া এর যোগ্যই নয়। তাঁর এই কড়া প্রতিক্রিয়া আরও একবার দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং পাবলিক স্টেটমেন্টের সঠিক ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এল।




