গড়িয়াহাটের হিন্দুস্তান পার্কে বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয় অনীক দত্তের। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে তাঁর শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। জেনে নিন আর কী রয়েছে অনীক দত্তের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে?
বুধবার দুপুরে গড়িয়াহাটের হিন্দুস্তান পার্ক এলাকার বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে যান অনীক দত্ত। গুরুতর জখম অবস্থায় দ্রুত তাঁকে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ঠিক কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার খবর পেয়েই এলাকায় পৌঁছে যায় গড়িয়াহাট থানার পুলিশ। ঘটনাস্থলে রয়েছেন থানার অফিসার ইনচার্জ-সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। তদন্তে নেমেছে হোমিসাইড শাখাও। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে? এবার প্রকাশ্যে এল অনীক দত্তের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতে তাঁর মৃত্যু ঘিরে উঠেছে আরও প্রশ্ন।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুসারে, অনীক দত্তের শরীরে ছিল একাধিক আঘাতের ও ঘষা খাওয়ার চিহ্ন। মাথায় ও ঘাড়ে গভীর ক্ষত রয়েছে। তাঁর মস্তিষ্কেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাঁর মাথার খুলি ভেঙে গিয়েছে। শরীরের প্রায় সব পাঁজরের হাড়, পেলভিক বোন এবং বাঁ হাতের হাড়েও ভাঙনের প্রমাণ মিলেছে। ভেঙে গিয়েছিল মেরুদণ্ডের হাড়।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুসারে, পরিচালকের ফুসফুস, লিভার, কিডনি এবং হৃদযন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে সাবডিউরাল হেমারেজ বা রক্ষক্ষরণের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশে একাধিক ঘষা লাগার দাগ এবং আঘাতের চিহ্ন আছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, আজ হবে পরিচালক অনীক দত্তের শেষকৃত্য। ময়নাতদন্তের পর তাঁর দেহ রাখা আছে পিস ওয়ার্ল্ডে। পরিচালকের মেয়ে আসার পর হবে শেষকৃত্য। তার আগে দেহ নিয়ে যাওয়া হবে রবীন্দ্রসদনে। তারপর নিয়ে যাওয়া হবে মহাশ্মশানে।
এদিকে জানা গিয়েছে, পরিচালক অনীক দত্তের বাড়ির ছাদ থেকে একটি সুইসাইড নোট মিলেছে। ওই নোটে অনীক দত্ত তাঁর মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেননি। তবে, ঠিক কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন পরিচালক তা স্পষ্ট নয়। আপাতত পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গড়িয়াহাট থানার পুলিশ।


