রাজবীরের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিতর্কিত আচরণ আর দর্শকদের ক্ষোভ সব মিলিয়ে ফের চর্চার কেন্দ্রে নন্দিনী দত্ত। সিক্রেট রুম থেকে ফিরে এসেও শেষরক্ষা হল না তাঁর। কিন্তু কী এমন ঘটল যে, শেষ পর্যন্ত ‘দাদা’র কড়া নির্দেশে দুর্গ ছাড়তে হল অভিনেত্রীকে?
‘বিগ বস বাংলা’র দুর্গে আর জায়গা হল না নন্দিনী দত্তের। একবার দর্শকদের ভোটে দুর্গ ছাড়তে হলেও পরে সিক্রেট রুমের মাধ্যমে ফের প্রতিযোগিতায় ফিরে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসও দীর্ঘ হল না। রাজবীর দের সঙ্গে বিবাদ, দুর্ব্যবহার এবং মারধরের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত ‘দাদা’র কড়া নির্দেশে দুর্গ ছাড়তে হল অভিনেত্রীকে। শনিবারের বিশেষ পর্বে সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তে শো থেকে বিদায় নিলেন নন্দিনী।
রাজবীরের সঙ্গে ঝামেলাতেই বাড়ল বিপত্তি
‘বিগ বস বাংলা’ শুরু হওয়ার কয়েক দিন পর থেকেই রাজবীর ও নন্দিনীর মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তবে তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে প্রথম থেকেই ছিল নানা টানাপোড়েন। কখনও প্রেম, কখনও মনোমালিন্য, আবার কখনও তুমুল ঝগড়া—সব মিলিয়ে তাঁদের সম্পর্ক বারবার চর্চায় উঠে এসেছে।
গত সপ্তাহে দর্শকদের ভোটে দুর্গ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল নন্দিনীকে। যদিও পরে জানা যায়, তাঁকে সিক্রেট রুমে রাখা হয়েছে। গত বুধবার ফের দুর্গে ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের পর রাজবীরের সঙ্গে তাঁর বিবাদ আরও বেড়ে যায়।
দিন কয়েক আগে সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজবীরের সঙ্গে তুমুল ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন নন্দিনী। অভিযোগ, সেই সময় প্রেমিককে মারধরও করেন তিনি। নন্দিনীর এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজবীরও নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “অনেক হয়েছে। আর পোষাচ্ছে না। তুমি সব সীমা পেরিয়ে গিয়েছ। আমার মা তোমাকে মানবে না।”
যদিও পরবর্তীকালে ফের তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলে। একে অপরের কাছাকাছি আসেন দু'জনেই।
‘দুর্গের নিয়ম ভেঙেছ’, নন্দিনীকে কড়া বার্তা সৌরভের
তবে জাতীয় টেলিভিশনের পর্দায় নন্দিনীর এই আচরণ ভালোভাবে নেননি দর্শকদের একাংশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে শো থেকে বের করে দেওয়ার দাবিও উঠতে থাকে। শেষ পর্যন্ত শনিবারের বিশেষ পর্বে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মুখ খোলেন সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
‘দাদার দরবারে’ নন্দিনীকে রীতিমতো ভর্ৎসনা করেন তিনি। সৌরভ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দুর্গের নিয়ম অনুযায়ী কোনও প্রতিযোগী অন্যের গায়ে হাত তুলতে পারেন না। রাজবীরের সঙ্গে এমন আচরণের কোনও যুক্তি খুঁজে পাননি তিনি।
সঞ্চালক বলেন, “বাড়ির রুল আছে, হাতাহাতি-ধাক্কাধাক্কি হবে না। আর রাজবীর এমন কিছু করেনি দু'দিনে, তাহলে এরকম আচরণ কেন? তোমার ব্যবহার আমি হতাশ।”
এমনকী কোনও পুরুষ প্রতিযোগী যদি একই ধরনের আচরণ করতেন, সেক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপের পক্ষে থাকতেন বলে জানান সৌরভ। তাঁর কথায়, “দুর্নিবার, সৌরভ বা কোনও পুরুষ প্রতিযোগী এই আচরণ করলে আমি বিগ বসকে বলতাম কলার ধরে বের করে ট্রেনে কলকাতা পাঠাও।”
শেষ মুহূর্তেও প্রেমিকার পাশে রাজবীর
নন্দিনীর আচরণ নিয়ে ঘরের অন্য সদস্যরাও নিজেদের মতামত জানান। এরপরই আসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। সৌরভ সরাসরি নন্দিনীকে বলেন, “তোমার সময় এসেছে দুর্গ ছাড়ার। তুমি এবার আসতে পারো।”
চোখের জলে আরও একবার সুযোগ চেয়েছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু তাতে সিদ্ধান্ত বদলায়নি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রেমিকার পাশে থাকার চেষ্টা করেন রাজবীর। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “ভালোবাসা হারাতে চাই না।”
তবে বিগ বসের সিদ্ধান্ত মেনে নেন তিনি। রাজবীরের কথায়, “এতে ও শিক্ষা পাবে, ঘর থেকে বেরিয়ে দেখা করব। আমরা ভালো থাকব।”
একবার বিদায়ের পর সিক্রেট রুম থেকে ফিরে এসেও শেষরক্ষা হল না নন্দিনীর। রাজবীরের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং দুর্গের নিয়ম ভাঙার অভিযোগের জেরে শেষ পর্যন্ত ‘বিগ বস বাংলা’ থেকে বিদায় নিতে হল তাঁকে। এবার কি ঘরের বাইরে তাঁদের সম্পর্ক নতুন মোড় নেবে? নজর থাকবে দর্শকদের।












