ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে মাঝ আকাশে সহ-পাইলটের প্রাণঘাতী হামলার শিকার হন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। গুরুতর আহত হয়েও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে ১৮০ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচান। তাঁর এই অসীম সাহসের জন্য বলিউড হরুখ খান ও সলমন খান তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান এবার ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন। ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট FZ1073-এ মাঝ আকাশে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই সময় ক্যাপ্টেন স্মিত দারুণ সাহস দেখান। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শাহরুখ লেখেন, কঠিন সময়ে নিজের কথা না ভেবে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা আগে ভেবেছেন স্মিত। তাঁর এই কাজকে 'সাহস ও কর্তব্যের আসল রূপ' বলে উল্লেখ করেছেন কিং খান। শাহরুখ লেখেন, "ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর, যখন সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল, তখন আপনি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন!! বিপদের চোখে চোখ রেখে নিজের জীবনের ঝুঁকি নেওয়া মোটেও সহজ কাজ নয়। কিন্তু আপনি ঠিক সেটাই করেছেন। যাত্রীদের বাঁচিয়ে আপনি বুঝিয়ে দিয়েছেন একজন ক্যাপ্টেনের আসল কাজ কী। আপনার দ্রুত সুস্থতা কামনা করি, গোটা দেশ আপনাকে নিয়ে গর্বিত।"

এর আগে সলমন খানও স্মিতের সাহসের প্রশংসা করেন। এক্স (X) হ্যান্ডেলে সলমন লেখেন, এই পাইলটের সঙ্গে বিমানে সফর করতে পারলে তাঁর খুব ভালো লাগবে। স্মিতের কাজকে 'কামাল' বলেও উল্লেখ করেন ভাইজান। সলমন লেখেন, "কামাল কর দিয়া পাইলট জি, আমরা সবাই আপনাকে স্যালুট জানাই। আপনার সঙ্গে উড়তে পারলে দারুণ লাগবে.. ওয়েল ডান ব্রো.. ক্যাপ্টেন #SmitMachchhar।"

গর্বিত স্মিতের পরিবার

মাঝ আকাশে ককপিটের ভেতর প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল। গুরুতর আহত হয়েও বড়সড় বিমান দুর্ঘটনা রুখে দিয়েছেন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। শুক্রবার রাজকোটে তাঁর পরিবার এই নিয়ে দারুণ গর্ব প্রকাশ করেছে। গোটা দেশ তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছে বলেও জানান তাঁরা। রাজকোটে সংবাদসংস্থা এএনআই-কে (ANI) স্মিতের খুড়তুতো ভাই পুলকিত মাচ্ছর বলেন, "ও আমার ভাই। ওর সাহস আর এতগুলো প্রাণ বাঁচানোর কাজ দেখে আমাদের পরিবার, সমাজ এবং গোটা দেশ আজ গর্বিত। আমাদের পরিবারের জন্য এটা দারুণ গর্বের বিষয়। যখন দেশের বড় নেতারা ব্যক্তিগতভাবে বিবৃতি দেন, তখন সেটা সত্যিই গর্বের মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়। ও যে কাজ করেছে, তা সবার জন্যই গর্বের।"

মাঝ আকাশে ঠিক কী ঘটেছিল?

গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল। অভিযোগ, সেই সময় ওমানি কো-পাইলট হঠাৎই ক্যাপ্টেনের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান। বিমানটিকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই এই জঙ্গি হামলা চালানো হয়েছিল বলে অনুমান। এই ধস্তাধস্তির জেরে বিমানটি মাত্র দু'মিনিটের মধ্যে প্রায় ১৬,০০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এরপরই হাইজ্যাকের বিপদ সংকেত পাঠানো হয়।

গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর হামলাকারীকে কড়া বাধা দেন। বিমানের ক্রু মেম্বার এবং যাত্রীরাও ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে আটকে ফেলেন। এরপর ক্রুরা মিলে ফের বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুকে বিমানটির জরুরি অবতরণ করানো হয়। বিমানের ১৮০ জন যাত্রীই সম্পূর্ণ সুরক্ষিত অবস্থায় নিচে নেমে আসেন।