পূনমের সঙ্গে বিয়ের আগে রিনা রায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল শত্রুঘ্ন সিনহার…বিয়ের আগে নিজের প্রেমিকের জন্য কী করেছিলেন রিনা? 

বলিউডে বহু আলোচিত প্রেমকাহিনির মধ্যে শত্রুঘ্ন সিনহা ও তাঁর স্ত্রী পূনম সিনহার সম্পর্ক আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।। ১৯৬৫ সালে পাটনা থেকে মুম্বই (তৎকালীন বম্বে) যাওয়ার পথে ট্রেনে প্রথম দেখা হয় শত্রুঘ্ন সিনহা ও পুনমের। তখনও অভিনেতা হিসেবে কেরিয়ার শুরু করেননি শত্রুঘ্ন। তিনি যাচ্ছিলেন পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ায় (FTII)। 

অন্যদিকে, পূনম তখন স্কুলপড়ুয়া। বয়সের এই ফারাক নিয়েই শুরু হয়েছিল এক দীর্ঘ ও জটিল সম্পর্কের অধ্যায়। ‘ক্রেডল-স্ন্যাচার’ তকমা ও প্রথম মোহ নিজের আত্মজীবনী Anything But Khamosh-এ শত্রুঘ্ন সিনহা লিখেছেন, পুনমের সৌন্দর্যে তিনি প্রথম দেখাতেই মুগ্ধ হয়ে যান। বন্ধুমহলে তখন তাঁকে ‘ক্রেডল-স্ন্যাচার’ বলেও কটাক্ষ করা হতো। বয়স কম জানার পরেও পুনমের প্রতি আকর্ষণ লুকোতে পারেননি তিনি। বইয়ে শত্রুঘ্ন স্বীকার করেছেন, সামান্য স্পর্শ, এমনকি ট্রেনের ভিড়ে তাঁর পায়ের সঙ্গে পুনমের পা লেগে যাওয়াও তাঁকে শিহরিত করেছিল। 

দু’দিনের এই ট্রেনযাত্রায় শত্রুঘ্ন শুধু পূনমকেই নয়, তাঁর অভিভাবক মাসিকেও মুগ্ধ করতে সক্ষম হন। সেই সূত্রেই পাওয়া যায় পূনমের ঠিকানা। কয়েক বছর পর সেই ঠিকানাই হয়ে ওঠে তাঁদের যোগাযোগের সেতু। পূনম এগিয়ে গেলেন অভিনয়ে, অপেক্ষায় শত্রুঘ্ন ১৯৬৮ সালে ‘মিস ইয়ং ইন্ডিয়া’ খেতাব জেতেন পূনম। সেই সময় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা প্রায়ই চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ পেতেন। আশ্চর্যজনকভাবে, শত্রুঘ্নের আগেই পূনম সিনেমার প্রস্তাব পান। তখনও দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি, তবে টান যে ছিল, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। 

১৯৭১ সালে ধরতি কি গোধ মে ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার সময় তাঁরা একে অপরকে ভালোভাবে জানার সুযোগ পান। সেখানেই ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে, আর সম্পর্ক নতুন মোড় নেয়। রিনা রায়ের সঙ্গে প্রেম ও আলোচিত প্রেমত্রিভুজ এরই মধ্যে শত্রুঘ্ন সিনহা বলিউডে বড় তারকা হয়ে উঠছেন। জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জীবনে আসে একাধিক সম্পর্ক।

 তবে সবচেয়ে আলোচিত ছিল অভিনেত্রী রিনা রায়ের সঙ্গে তাঁর প্রেম। পর্দায় যেমন জনপ্রিয় জুটি ছিলেন তাঁরা, বাস্তব জীবনেও সম্পর্ক ছিল গভীর। এমনকি পুনমের সঙ্গে বিয়ের পরেও রিনা রায়ের সঙ্গে শত্রুঘ্নের সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে সে সময় গুঞ্জন ছড়ায়। ট্যাবলয়েডে শিরোনাম হয় তাঁদের প্রেমত্রিভুজ। 

সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনা, পূনমের সঙ্গে বিয়ের ঠিক কয়েক দিন আগে শত্রুঘ্ন ছিলেন লন্ডনে, রিনা রায়ের সঙ্গে। শোনা যায়, বিয়ের জন্য তাঁকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিয়েছিলেন রিনাই—যাতে তিনি ফিরে এসে সেই মেয়েটিকেই বিয়ে করতে পারেন, যাঁর সঙ্গে তাঁর প্রেম শুরু হয়েছিল বহু বছর আগে ট্রেনযাত্রায়।

 প্রেমের শেষ পরিণতি সব বিতর্ক, টানাপড়েন ও জটিলতার পর শেষ পর্যন্ত ১৪ বছরের দীর্ঘ প্রেমপর্বের ইতি ঘটে শত্রুঘ্ন সিনহা ও পূনমের বিয়েতে। সময় প্রমাণ করেছে, তাঁদের সম্পর্ক শুধু আবেগের নয়, ছিল ধৈর্য ও সহনশীলতারও এক দীর্ঘ পরীক্ষা। আজও বলিউডের ইতিহাসে এই প্রেমকাহিনি রয়ে গেছে এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে—যেখানে হঠাৎ দেখা, দীর্ঘ অপেক্ষা, খ্যাতি, সম্পর্কের ভাঙাগড়া—সব মিলিয়ে বাস্তব জীবনই হার মানায় সিনেমার গল্পকে।