ওটিটি-তে রিলিজ 'ধুরন্ধরে' একাধিক কাটছাট! কেন এত বাদ পড়ল দৃশ্য? ক্ষোভে ফেটে পড়লেন সিনেপ্রেমীরা

নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিং শুরু হতেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে আদিত্য ধর পরিচালিত ছবি ‘ধুরন্ধর’। সিনেমা হলে মুক্তির সময় ছবিটি ‘এ’ সার্টিফিকেট পেয়েছিল। তাই দর্শকদের আশা ছিল, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তারা ছবির আনকাট ভার্সনই দেখতে পাবেন। কিন্তু স্ট্রিমিং শুরু হতেই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দেন দর্শকেরা। অনেক দর্শকের অভিযোগ, নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া সংস্করণে একাধিক সংলাপ মিউট করা হয়েছে, গালিগালাজ সেন্সর করা হয়েছে এবং থিয়েটার ভার্সন থেকে প্রায় দশ মিনিট কেটে দেওয়া হয়েছে। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

প্রশ্ন উঠছে, যেখানে প্ল্যাটফর্মটি নিজেই ১৮+ ক্যাটাগরির কনটেন্ট দেখায়, সেখানে একটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্মিত ছবিতে কেন এই ধরনের কাটছাঁট করা হল। দর্শকদের একাংশ বিষয়টিকে অন্যায় ও অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাঁদের বক্তব্য, এর আগে বহু হিংসাত্মক ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি ছবি ওটিটিতে কোনও কাটছাঁট ছাড়াই স্ট্রিম হয়েছে। তাই ‘ধুরন্ধর’-এর ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম কেন প্রয়োগ করা হল, তা নিয়েই ক্ষোভ বাড়ছে। এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ নেটফ্লিক্স ইন্ডিয়াকে ট্যাগ করে একের পর এক পোস্ট করছেন দর্শকেরা। কেউ লিখেছেন, ওটিটিতেও যদি সেন্সর চলে, তাহলে সিনেমা হলে আর ঘরে বসে দেখার তফাত কোথায়। আবার কেউ বলছেন, মাসের পর মাস অপেক্ষা করার পরও ছবির আসল রূপ দেখা গেল না। অনেকেই ‘অ্যানিম্যাল’ বা ‘কবীর সিং’-এর মতো ছবির উদাহরণ টেনে এনে প্রশ্ন তুলছেন, সেখানে কাট হয়নি, অথচ এখানে কেন হচ্ছে। 

সব মিলিয়ে দর্শকদের অনুভূতি একটাই—তাঁরা প্রতারিত বোধ করছেন। উল্লেখ্য, আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ মুক্তি পেয়েছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এবং বছরটির অন্যতম বড় অ্যাকশন হিট হিসেবে উঠে আসে। ছবিতে মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন রণবীর সিং। তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন অক্ষয় খান্না, সঞ্জয় দত্ত, আর. মাধবন ও অর্জুন রামপাল। 

ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে একটি গোপন মিশনকে ঘিরে। ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধান অজয় সান্যালের (আর. মাধবন) নেতৃত্বে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভাঙার পরিকল্পনা করা হয়। রণবীর সিং অভিনীত হামজা চরিত্রটি করাচির আন্ডারওয়ার্ল্ডে ঢুকে পড়ে, নিজের জীবন বাজি রেখে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ ভেতর থেকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে। এই থ্রিলারের অনুপ্রেরণা হিসেবে আইসি-৮১৪ বিমান অপহরণ এবং ২০০১ সালের সংসদ হামলার মতো বাস্তব ঘটনার ছায়াও রয়েছে। তবে ওটিটি মুক্তির পর সেন্সর বিতর্ক ছবির সাফল্যের উপর নতুন করে প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল বলে মনে করছেন অনেকে।