সুজান খানের দিদি ফারাহ খান আলি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হৃত্বিক রোশনের থেকে ডিভোর্সের সময় সুজানের ৪০০ কোটি টাকা খোরপোশ নেওয়ার গুজবকে সম্পূর্ণ মিথ্যে বলে দাবি করেছেন।
হৃত্বিক রোশন আর সুজান খানের ডিভোর্সের খবরে লক্ষ লক্ষ অনুরাগীর মন ভেঙে গিয়েছিল। তাঁদের অসাধারণ ছবি, সম্পর্কের রসায়ন আর একে অপরের প্রতি ভালোবাসা দেখে অনেকেই মনে করতেন, বলিউডে এর চেয়ে নিখুঁত জুটি আর হয় না। কিন্তু বিচ্ছেদের পর একটা গুজব খুব ছড়িয়েছিল যে, হৃত্বিকের থেকে খোরপোশ হিসেবে ৪০০ কোটি টাকা নিয়েছিলেন সুজান।

অবশেষে এই বিষয়ে মুখ খুললেন সুজানের দিদি ফারাহ খান আলি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই খবর আগাগোড়া মিথ্যে। প্রসঙ্গত, হৃত্বিক-সুজান ১৫ বছরেরও বেশি সময় বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁদের দুই ছেলেও রয়েছে। সম্প্রতি সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানির ইউটিউব চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে ফারাহ সেই পুরোনো দিনের কথা মনে করেন, যখন হৃত্বিক আর সুজান তাঁদের বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করেছিলেন।
সুজানের ডিভোর্স ও খোরপোশ নিয়ে কী বললেন ফারাহ?
“খবরটা শুনে সবাই চমকে গিয়েছিল। চারদিকে হইচই পড়ে যায়। ওঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে লোকে নানা কথা বলছিল, কিন্তু আমার মনে হয় ওরা দুজনেই খুব সুন্দরভাবে পুরো বিষয়টা সামলেছিল। ওদের বিচ্ছেদটা বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল। একটা কথা আমি রেকর্ডেই বলতে চাই, ৪০০ কোটি টাকার খোরপোশের কোনও ব্যাপারই ছিল না। যখন দেখি লোকে অনলাইনে লেখে যে ৪০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে আর সুজান আরও ধনী হয়ে গেছে, তখন আমার গা গুলিয়ে ওঠে। এটা একটা ডাহা মিথ্যে কথা। আমার আদরের বোন কোনও টাকাই নেয়নি। আমরা এমন একটা পরিবার থেকে এসেছি, যেখানে মা আমাদের শিখিয়েছেন যে টাকাপয়সা বা জিনিসপত্র নয়, সম্পর্কটাই আসল। তাই আমার বোন কিছুই নেয়নি।"
"আর সেই কারণেই আজ ওর প্রাক্তন স্বামী হৃত্বিক এবং প্রাক্তন শ্বশুর-শাশুড়ি, মানে পিঙ্কি আন্টি আর রাকেশ আঙ্কেলের সঙ্গে ওর সম্পর্কটা এত চমৎকার। ওঁরা ওকে খুব ভালোবাসেন। আমার মনে হয়, সুজান খুব রুচিশীলভাবে নিজেকে সামলেছে। ও কোনও 'গোল্ড-ডিগার' নয়। ও খুব মার্জিত। একটা খানদানি পরিবার থেকে এসেছে ও। হৃত্বিকও একজন অসাধারণ মানুষ। ওদের মধ্যে বনিবনা হয়নি, কিন্তু তার জন্য সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজেদের সম্পর্ককে ছোট করার কোনও মানে হয় না। এই ডিভোর্সে কোনও খোরপোশ ছিল না। এই খবরটা ভুল এবং অত্যন্ত খারাপ।”
এই গুজবের প্রতিবাদ করেননি কেন সুজান?
ফারাহ যখনই সুজানকে এই সব গুজবের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে বলতেন, সুজান রাজি হতেন না। ফারাহ বলেন, “আমি ওকে বলেছিলাম, 'তুই এই সব কথার প্রতিবাদ করছিস না কেন?' ও বলত, 'লোকে আমার সম্পর্কে কী ভাবল, তাতে আমার কিছু যায় আসে না, ফারাহ'। আমার মনে হয়, আমরা সবাই ওরকমই। আমি যা চাই তাই করি। আপনি যদি আমার জীবনে কোনও গুরুত্ব না রাখেন, তাহলে আমি কী করছি তাতে আপনার কিছু আসা-যাওয়া উচিত নয়, আর আপনি আমার সম্পর্কে কী ভাবেন, তাতেও আমার কিছু যায় আসে না।”
তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে কিছু কথা
হৃত্বিক এবং সুজান ছোটবেলার বন্ধু ছিলেন। 'কহো না পেয়ার হ্যায়' ছবির মাধ্যমে হৃত্বিকের বলিউডে পা রাখার কয়েক মাস পরেই, ২০০০ সালের ডিসেম্বরে তাঁরা বিয়ে করেন। এই দম্পতির দুই ছেলে রয়েছে, হৃহান (জন্ম ২০০৬) এবং হৃদান (জন্ম ২০০৮)।


