মায়ের মৃত্যুদিনে এক কুরুচিকর মন্তব্যের শিকার হন শিল্পী ইমন চক্রবর্তী। এই ঘটনায় গভীরভাবে আঘাত পেয়ে, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ….
দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে ১২ বছর। মা হারানোর এই দিনটা অত্যন্ত যন্ত্রণার ইমন চক্রবর্তী-র কাছে। মায়ের মৃত্যুদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্ট করেছিলেন শিল্পী। সেখানে তিনি গত বারো বছরের অভিজ্ঞতা, শেখা এবং বড় হয়ে ওঠার কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, ‘বড় তো ওইদিনই হয়ে গিয়েছি। তোমায় ছাড়া জীবন দিনে দিনে আরও কঠিন হয়ে উঠছে। তুমি ফিরে এসো পারলে।’ এই পোস্টের কমেন্ট সেকশনে এক ব্যক্তি কুরুচিকর মন্তব্য করেন।
তিনি লেখেন, ‘হ্যাঁ পারলে ফিরে এসো মা, দেখো আমি কী চাটছি। উন্নয়নের পাঁচালি গেয়ে বঙ্গ বিভূষণ জিতে নিয়েছি, শুধু নোবেলটা বাকি আছে। দেখে যাও মা।’ মায়ের মৃত্যুদিনে এমন মন্তব্য গভীর ভাবে আঘাত করেছে শিল্পীর মনে। ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে ইমন বলেন, ‘এটা এমন একটা দিন, যে দিন আমি কাউকে চিনি না। আমার চারপাশে কে আছে আমি দেখতে পাই না। আমি যতটুকু যা তাতে আপনাদের আমাকে ভালো লাগতে পারে, খারাপও লাগতে পারে। তবে তাই বলে কাউকে যা ইচ্ছে বলে দিলাম, এটা হয় নাকি?’
মায়ের মৃত্যুদিনে এমন মন্তব্যে বিরক্ত হয়ে তিনি আরও বলেন, ‘গতকালের এই ঘটনা খুব এফেক্ট ফেলেছে আমার উপর। একজন শিল্পী হিসেবে আমি সব ধরনের গান গাই। রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে শুরু করে আধুনিক। পাঁচালিও গেয়েছি প্রয়োজনে। তাতে তো আমার কোনও আপত্তি নেই। আমার বাড়ির লোকেদেরও কোনও সমস্যা নেই। তা হলে আপনাদের কীসের এত আপত্তি?’ শিল্পীর সংযোজন, ‘এই ঘটনাটা আমার চোখ খুলে দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াকে আমার পার্সোনাল জায়গা হিসেবে ব্যবহার করছি। কোনও ঘৃনা তো ছড়াচ্ছি না। কিন্তু এরকম একটা পার্সোনাল জায়গায় এমন মন্তব্য? এরকম মানুষ আমাদের চারপাশে আছেন। এবং এরা সমস্ত জায়গায় ঘৃনা ছড়াচ্ছে।
ব্যক্তিগত অ্যাটাকের জায়গাটা বেড়ে যাচ্ছে।’ এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ব্যক্তিগত ভাবে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইমন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমার মাকে টেনে নামানো হয়েছে। বেচারি কোথায় চলে গিয়েছেন কেউ জানে না। আমি অবাক হয়ে গিয়েছি। সত্যি নিতে পারছি না। আপনাদের পার্সোনাল জায়গা নিয়ে যেমন আমার বলার কথা নয়। ঠিক তেমনই আমার ব্যক্তিগত জায়গা নিয়ে কথা বলার অধিকারও নেই আপনাদের। আর আমার এই বক্তব্যের জন্য যদি কেউ আমার গান শুনতে না চান, আমি বলছি প্লিজ় শুনবেন না। কোনও দরকার নেই। ভোট আমি ব্যালেট বক্সে দিই। তাই আমার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কথা বলার আপনারা কেউ নন। সত্যি বলছি আমি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি।’ এখন থেকে তাঁর গান বা কাজের আপডেট পাওয়া যাবে তাঁর অফিসিয়াল পেজে। তবে ব্যক্তিগত মুহূর্ত আর শেয়ার করবেন না বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিল্পী।

