ঋষিকেশে আন্তর্জাতিক যোগ উৎসব ২০২৬-এ যোগ দিয়েছেন গায়ক কৈলাস খের এবং অভিনেতা কুণাল কাপুর। 

ঋষিকেশের পরমার্থ নিকেতন আশ্রমে আন্তর্জাতিক যোগ উৎসব ২০২৬ ঘিরে উৎসাহ তুঙ্গে। শুক্রবার এই উৎসবে যোগ দিতে জলি গ্রান্ট বিমানবন্দরে এসে পৌঁছলেন গায়ক কৈলাস খের এবং অভিনেতা কুণাল কাপুর। ৯ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত এই সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সারা বিশ্ব থেকে মানুষ ভিড় জমিয়েছেন।

দেরাদুনে পৌঁছে কৈলাস খের এই জায়গার গুরুত্ব এবং যোগের বিশ্বব্যাপী বার্তা নিয়ে কথা বলেন। এএনআই-কে তিনি বলেন, "এখানে এসে দারুণ লাগছে, কারণ এটাই যোগের ভূমি। এটা দেবভূমি। এখানকার মাটি, বাতাস, মানুষের হাসি—সবকিছুর মধ্যেই ঈশ্বরকে খুঁজে পাওয়া যায়।" তিনি আরও বলেন, "সারা দুনিয়া যখন একে অপরের সঙ্গে লড়ছে, তখন ভারত কী করছে? ভারত সবাইকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করতে বলছে, আত্মার কথা, ঈশ্বরের কথা, শান্তি আর আনন্দের কথা বলছে। এটাই আমাদের ভারত।" তিনি জানান, প্রায় ১০০টি দেশের প্রতিনিধিরা এই উৎসবে যোগ দিয়েছেন।

অন্যদিকে, অভিনেতা কুণাল কাপুরও জলি গ্রান্ট বিমানবন্দরে পৌঁছন। তিনি বলেন, "এখানে আসতে সবসময়ই ভালো লাগে। এটা একটা ঐতিহাসিক জায়গা, যেখানে আধ্যাত্মিকতা আর সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটেছে। মুম্বইয়ের তুলনায় এখানকার পরিবেশ অনেক শান্ত। তাই এখানে এলে মন ভালো হয়ে যায়।"

আন্তর্জাতিক যোগ উৎসব শুরু হয় ৯ মার্চ। পরমার্থ নিকেতনের গঙ্গা ঘাটে প্রথাগত প্রার্থনা ও আচারের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পতঞ্জলি যোগ পীঠের আচার্য বালকৃষ্ণ এবং বিখ্যাত পারকাশনিস্ট শিবমণি উপস্থিত ছিলেন। এই সময় পরমার্থ নিকেতন আশ্রমের সভাপতি স্বামী চিদানন্দ সরস্বতী গঙ্গা আরতি করেন এবং মা গঙ্গার কাছে বিশেষ প্রার্থনা জানান।

এই উৎসবে বিভিন্ন ধরনের যোগাসনের পাশাপাশি মেডিটেশন, প্রাণায়াম এবং পবিত্র আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রতিদিনের গঙ্গা আরতিও রয়েছে।

১১ মার্চ সন্ধ্যায় গঙ্গা আরতির সময় শিবমণি তাঁর অসাধারণ বাদ্য পরিবেশন করেন। দেশ-বিদেশ থেকে আসা ভক্ত ও দর্শকরা তাঁর পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হন। কি-বোর্ড প্লেয়ার রুনা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এই পারফরম্যান্স আধ্যাত্মিক সমাবেশে এক অন্য মাত্রা যোগ করে। (এএনআই)