সোশ্যাল মিডিয়ায় কিংবদন্তী অভিনেত্রী বৈজয়ন্তীমালাকে 'স্বর্গীয়' বলে প্রশংসা করলেন অভিনেত্রী-রাজনীতিবিদ কঙ্গনা রানাউত। বর্ষীয়ান এই তারকার একটি পুরনো নাচের ভিডিও শেয়ার করে তাঁর শিল্পসত্তা ও ভারতীয় সিনেমায় তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন কঙ্গনা।
অভিনেত্রী-রাজনীতিবিদ কঙ্গনা রানাউত সোশ্যাল মিডিয়ায় কিংবদন্তী অভিনেত্রী ও ক্লাসিক্যাল ডান্সার বৈজয়ন্তীমালাকে 'স্বর্গীয়' বলে প্রশংসা করেছেন। ভারতীয় সিনেমায় তাঁর দীর্ঘস্থায়ী অবদানের কথা স্মরণ করে কঙ্গনা তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বৈজয়ন্তীমালার একটি পুরনো ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেন। ভিডিওটিতে বর্ষীয়ান এই তারকাকে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ক্লাসিক্যাল নাচ করতে দেখা যায়।

ভিডিওর সাথে কঙ্গনা এই আইকনিক তারকার শৈল্পিক প্রতিভা এবং সৌন্দর্যের প্রশংসা করে একটি নোটও লেখেন। তিনি লেখেন, “শুধু মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য বলছি, পৃথিবীতে সবাই মানুষ হয়ে জন্মায় না, কেউ কেউ স্বর্গীয় হন। সাধারণ মানুষেরা শুধু তাঁদের পুজো করার জন্যই জন্মায়।”
কঙ্গনার এই প্রশংসা ভারতীয় সিনেমা ও শাস্ত্রীয় নৃত্যে বৈজয়ন্তীমালার 엄청 প্রভাবকেই তুলে ধরে। হিন্দি সিনেমার প্রথম মহিলা সুপারস্টারদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে গণ্য করা হয় তাঁকে। বলিউডের মূলধারার গল্পে ভরতনাট্যম এবং সেমি-ক্লাসিক্যাল নাচকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল বিশাল।
১৯৩৩ সালের ১৩ আগস্ট বৈজয়ন্তীমালার জন্ম। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৯৪৯ সালে তামিল ছবি 'ভাজকাই' দিয়ে তাঁর অভিনয় জীবন শুরু হয়। এরপর ১৯৫১ সালে 'বাহার' ছবির মাধ্যমে তিনি হিন্দি সিনেমায় পা রাখেন। ১৯৫৪ সালে 'নাগিন' ছবির বাণিজ্যিক সাফল্যের পর তিনি দেশজোড়া খ্যাতি পান। এরপর 'দেবদাস', 'মধুমতী', 'গঙ্গা যমুনা', 'সঙ্গম' এবং 'জুয়েল থিফ'-এর মতো ক্লাসিক ছবিতে তিনি অসাধারণ অভিনয় করেন।
কিংবদন্তী অভিনেতা দিলীপ কুমারের সঙ্গে তাঁর জুটি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সেরা জুটি হিসেবে পরিচিত। সিনেমার পাশাপাশি, ভরতনাট্যমে তাঁর দক্ষতার জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভা-সহ বিশ্বের বিভিন্ন মঞ্চে তিনি পারফর্ম করেছেন। লতা মঙ্গেশকরের গাওয়া 'হোঁঠো পে অ্যায়সি বাত'-এর মতো গানে তাঁর নাচ আজও দর্শকের মনে গেঁথে আছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি বৈজয়ন্তীমালা জনসেবাতেও নিজের কেরিয়ার গড়ে তোলেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আমন্ত্রণে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮৪ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি লোকসভার সাংসদ ছিলেন এবং পরে ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে মনোনীত হন।
এই বর্ষীয়ান তারকা ভারতের বেশ কয়েকটি সর্বোচ্চ সম্মান পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৬৮ সালে পদ্মশ্রী, ১৯৮২ সালে সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার এবং ২০২৪ সালে পদ্মবিভূষণ।
এদিকে, কঙ্গনা রানাউত তাঁর আসন্ন ছবি 'ভারত ভাগ্য বিধাতা'-র মুক্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মনোজ তাপাড়িয়ার পরিচালনায় এই ছবিটি ২০২৬ সালের ১২ জুন মুক্তি পাওয়ার কথা। ২০০৮ সালের মুম্বাই সন্ত্রাসবাদী হামলায় যে সমস্ত নায়কদের কথা আড়ালে থেকে গেছে, তাঁদের গল্প নিয়েই তৈরি হয়েছে এই ছবি। (ANI)
