অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী ফিরছেন নতুন ওয়েব সিরিজ ‘ক্যুইন’-এ, যা পরিচালনা করেছেন নির্ঝর মিত্র।
নতুন ওয়েব সিরিজ নিয়ে ফের দর্শকদের সামনে আসতে চলেছেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। পরিচালক নির্ঝর মিত্র-র নতুন সিরিজ ‘ক্যুইন’-এ মুখ্য ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। রহস্য, ষড়যন্ত্র, প্রতিশোধ এবং নারীর লড়াই— সব মিলিয়ে এক অন্যধরনের গল্প নিয়ে আসছে এই সিরিজ।

উত্তরবঙ্গের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই সিরিজের কেন্দ্রে রয়েছে সরকার পরিবার। বাহ্যিক ভাবে অভিজাত ও প্রভাবশালী এই পরিবারের অন্দরেই লুকিয়ে রয়েছে একের পর এক অন্ধকার রহস্য। সেই রহস্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখা যাবে মিমির চরিত্র ‘মীরা সরকার’-কে। জীবনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে কী ভাবে এক নারী নিজের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালায়, সেই গল্পই উঠে আসবে সিরিজে।
এই সিরিজে শুধু মিমি নন, গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে থাকছেন আরও একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রী। চার নারীর প্রতিশোধ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং বেঁচে থাকার সংগ্রামের গল্প বলবে ‘ক্যুইন’। মিমির পাশাপাশি দেখা যাবে বৈশাখী মার্জিত, দেবযানী সিংহ এবং পায়েল দে-কে। এছাড়াও অভিনয়ে রয়েছেন দুর্বার শর্মা, কৌশিক চট্টোপাধ্যায়, দেবাঞ্জন মিত্র, যুধাজিৎ সরকার এবং রাহুল দেব বসু। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে থাকছেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, অর্ণ মুখোপাধ্যায়, সুব্রত সেনগুপ্ত এবং সায়ক রায়।
নিজের চরিত্র নিয়ে বলতে গিয়ে মিমি চক্রবর্তী জানান, মীরা তাঁর অভিনয় জীবনের অন্যতম কঠিন চরিত্র। অভিনেত্রীর কথায়, “মীরা চরিত্রটার অনেক স্তর রয়েছে। সে একদিকে ভীষণ দুর্বল, আবার বাঁচার জন্য লড়াই করতেও মরিয়া। এই চার নারীর সংগ্রামের গল্পটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে।” মিমির মতে, চরিত্রটির আবেগ, ভাঙন, ভয় এবং প্রতিবাদ— সবকিছুই ফুটিয়ে তোলা একজন অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এই সিরিজ শুধু থ্রিলার নয়, বরং নারীর আত্মসম্মান ও লড়াইয়ের এক শক্তিশালী গল্পও।
পরিচালক নির্ঝর মিত্রও জানিয়েছেন, ‘ক্যুইন’-এর মূল বিষয়ই হল ক্ষমতাশালী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অসম লড়াই। তাঁর কথায়, “যখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তখন সবচেয়ে দুর্বল মানুষও ঘুরে দাঁড়ায়। এই সিরিজে যেমন থ্রিল রয়েছে, তেমনই আবেগও রয়েছে।”
উত্তরবঙ্গের রহস্যময় আবহ, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং চার নারীর প্রতিশোধের কাহিনি— সব মিলিয়ে ‘ক্যুইন’ যে দর্শকদের কাছে অন্যরকম অভিজ্ঞতা হতে চলেছে, তা বলাই যায়।
