বর্ষীয়ান অভিনেত্রী নীনা গুপ্তা এক পডকাস্টে বয়স্কদের যৌন জীবন নিয়ে ঠোঁটকাটা মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বয়স বাড়লেও মানুষের যৌন চাহিদা কমে না, কিন্তু সঙ্গীর অবহেলা বা সামাজিক চাপে অনেকেই স্ত্রীর বাইরে সেই চাহিদা মেটানোর পথ খোঁজেন।
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী নীনা গুপ্তা (Neena Gupta) আরও একবার তাঁর ঠোঁটকাটা মন্তব্যের জন্য খবরের শিরোনামে। যে বিষয়গুলো নিয়ে সমাজ সহজে মুখ খোলে না, সেই 'ট্যাবু' ভেঙে কথা বলতে তিনি বরাবরই সিদ্ধহস্ত। সম্প্রতি শুভঙ্কর মিশ্রর পডকাস্টে এসে তিনি বয়স্কদের যৌন জীবন নিয়ে এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা শুনে অনেকেই চমকে গেছেন। এই ভিডিও ক্লিপটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, আর নেটিজেনরা তাঁর সততা ও সাহসের প্রশংসা করছেন।
শুভঙ্কর যখন নীনাকে জিজ্ঞেস করেন, "ভারতে কি যৌনতাকে পাপ হিসেবে দেখা হয়?" উত্তরে অভিনেত্রী 'না' বললেও, তাঁর ব্যাখ্যা ছিল অন্যরকম। নিজের স্কুলের দিনের একটি ঘটনা মনে করে তিনি বলেন, "একবার আমার এক বান্ধবী বলেছিল যে আমাদের ক্লাস টিচারের বয়ফ্রেন্ড এসেছে। শুনে আমার খুব রাগ হয়েছিল। আমি ভাবতাম, টিচারদের ভাবমূর্তি সবসময় পরিষ্কার হওয়া উচিত, তাঁদের বয়ফ্রেন্ড থাকবে কেন!" তাঁর মতে, যৌনতার বিষয়েও আমাদের মাথায় একই ধরনের ধারণা গেঁথে আছে যে এটা একটা ভুল জিনিস। মেয়েদের স্কুলে পড়ার সময় 'ভালোবাসা' শব্দটাও তাঁরা খোলাখুলি বলতে পারতেন না। এমনকি তিনি এও জানান যে, কিশোরী বয়সে তিনি ভাবতেন শুধু চুমু খেলেই হয়তো গর্ভবতী হয়ে যেতে পারেন।
বয়স্করা কি বেশি সেক্স করেন?
পডকাস্টে বয়স্কদের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেই সময় শুভঙ্কর একজন যৌন বিশেষজ্ঞের মন্তব্য উল্লেখ করে বলেন, "বয়স্করা নাকি অনেক বেশি সেক্স করেন।" এই কথা শুনে নীনা প্রথমে অবাক হয়ে যান এবং মজার ছলে জিজ্ঞেস করেন, "তাই নাকি? বয়স্করা বেশি সেক্স করে?" কিন্তু এরপরই তিনি যা বলেন, তা বেশ গুরুতর। তিনি যোগ করেন, "হ্যাঁ, করে। তবে তারা সেটা নিজের স্ত্রীর সঙ্গে করে না। আমি এমন অনেক ঘটনা দেখেছি।" নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোর কথা মনে করে তিনি আরও একটি تلখ সত্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাসে মহিলাদের গায়ে খারাপভাবে হাত দেওয়া লোকেদের মধ্যে বেশিরভাগই বয়স্ক পুরুষ হতেন।
"বয়স্করাও তো মানুষ"
নীনা গুপ্তার এই কথার মধ্যে একটা গভীর পর্যবেক্ষণ লুকিয়ে আছে। এর থেকে স্পষ্ট যে, বয়স বাড়লেই মানুষের শারীরিক বা যৌন চাহিদা শেষ হয়ে যায় না। বয়স যতই হোক, এই ইচ্ছেগুলো মানুষের মধ্যে থেকে যায়। কিন্তু অনেক সময় স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে সেই বোঝাপড়া বা সুযোগ থাকে না। সঙ্গীরা একে অপরের প্রয়োজনকে অবহেলা করেন অথবা সামাজিক চাপে সেই কথাগুলো চাপা পড়ে যায়। এর ফলেই অনেক বয়স্ক মানুষ নিজেদের চাহিদা মেটাতে বাইরের পথ খোঁজেন। "বয়স্করাও তো মানুষ"—এই সত্যিটা নীনা কোনও রাখঢাক না রেখেই তুলে ধরেছেন।
আমাদের সমাজ বয়স্কদের শুধুমাত্র ধার্মিক, পরিবারকেন্দ্রিক বা অসুস্থ ব্যক্তি হিসেবেই দেখে। কিন্তু নীনা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁদেরও অনুভূতি, ইচ্ছে এবং প্রয়োজন আছে। যৌনতা বা শারীরিক ঘনিষ্ঠতা শুধু তরুণদের জন্য নয়। ৬০, ৭০ বা ৮০ বছর বয়সেও মানুষের মধ্যে রোম্যান্স, শারীরিক সান্নিধ্য এবং ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে।
এর পেছনের মনস্তত্ত্ব (Psychology) কী?
বয়স্কদের মধ্যে যৌন চাহিদা এবং আচরণের পিছনে বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে।
চাহিদা শেষ হয় না: বয়স বাড়লে হরমোনের মাত্রা কমতে পারে, কিন্তু যৌনতার ইচ্ছে পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না।
স্বাস্থ্য ভালো রাখতে: ব্যায়ামের মতোই শারীরিক সম্পর্ক রক্তচাপ কমাতে এবং অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে।
তারুণ্যের অনুভূতি: শারীরিক ঘনিষ্ঠতা মানুষকে মানসিকভাবে তaরুণ রাখে।
ঘনিষ্ঠতার জন্য: ভালোবাসা, স্পর্শ এবং সঙ্গীর সান্নিধ্যের প্রয়োজন হয়।

