ভোটে বিজেপির জয়ের পর টলিপাড়ার পরিবর্তন আনতে উদ্যোগী হয়েছেন পাপিয়া অধিকারী। বিশ্বাস ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ শুনতে এবং শিল্পী-কলাকুশলীদের সমস্যার সমাধানে তিনি এক বিশেষ বৈঠকের ডাক দিয়েছেন।
ভোটে বিজেপির জয় লাভের পর থেকে টলিপাড়ার চিত্রটা যেন পুরো বদলে গিয়েছে। এতদিন যারা ভয় পেয়ে চুপ ছিলেন তারা সকলেই মুখ খুলছেন। ভুড়িভুড়ি অভিযোগ উঠেছে বিশ্বাস ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে। এবার সেই সকল অভিযোগ শুনতে টলিপাড়ায় বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন পাপিয়া অধিকারী। তিনি আগেই জানিয়েছে, টলিউডের জন্য কাজ করতে চান। শিল্পী থেকে কলাকুশলীরা প্রত্যেকে যাতে কাজের সুযোগ পান সেদিকে নজর দিতে চান। সে কারণেই বিশেষ বৈঠকে বসছেন পাপিয়া। টালিগঞ্জের কলাকুশলীদের সঙ্গে বিজেপি বিধায়কের বৈঠকে উঠে আসবে কোনও সদর্থক সমাধানসূত্র, এমন মনে করছেন টলিপাড়ার একাংশ।

ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি বারে বারে বলেছেন, টলিউডে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করেছেন বিশ্বাস ব্রাদার্স। অরুপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসকে এক সঙ্গে বিশ্বাস ব্রাদার্স নামে ডাকা হয়ে থাকত। এদের বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠছে। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন টলিউডে রাজ করেছে তারা। সে কারণে কার্যত সকলে চুপ ছিল। কিন্তু, পালাবদলের পর মুখ খুলতে শুরু করেছে টেকনিশিয়ান থেকে শিল্পী সকলে। টলিপাড়ার এই সকল সদস্যের সমস্যার কথা শোনার জন্যই ডাকা হয় এই বৈঠক।
একসময় ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস বলেছিলেন যে কোনও বাণিজ্যিক ছবি মুক্তির আগে ফেডারেশনের অনুমতি প্রয়োজন। এটি একটি ঘটনা নয়, টলিপাড়ার ওপর যে রাজনৈতিক দলের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ছিল তা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এর প্রমাণ মিলেছে পদে পদে। ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তৃণমূলের যে কোনও সভা থেকে পদযাত্রা সবেতে উপস্থিত থাকতে হয়েছে শিল্পীদের। তবে,এবার আশা করা যাচ্ছে এবার বদল হবে এই চিত্র।
বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই এক সাক্ষাৎকারে শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, কে ছবি বানাবে, কার ছবি নন্দনে আগে মুক্তি পাবে, সেটাও কি অন্য কেউ ঠিক করবে? শিল্পীর মর্যাদা শিল্পীরাই রক্ষা করতে পারেন।
এদিকে বর্তমানে রুদ্রনীলও বারে বারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে টলিউডের উন্নতি করার। কাজের সঠিক পরিবেশ তৈরি করার। তিনিও আগে একাধিকবার কলাকুশলীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। সকলের সঙ্গে কথা বলে অভাব অভিযোগ শুনেছেন।
