ধর্মের জন্য অভিনয় ছেড়েছেন জাইরা ওয়াসিম। জানিয়েছেন আল্লাহর উপর তাঁর বিশ্বাসে ব্যাঘাত ঘটছিল। অভিনয় জগতে তাঁকে মানিয়ে গেলেও, এটা তাঁর জায়গা নয়। তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বলিউডে তোলপাড় চলছে। অনেকে জাইরার এই সিদ্ধান্তের নিন্দাও করেছেন। এবার এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন কঙ্গনা রানাউতের দিদি রঙ্গোলি চন্দেল। 

জাইরার এই সিদ্ধান্তে প্রথনে ক্ষুণ্ণ হয়েছিলেন রবিনা ট্যান্ডন। তিনি লিখেছিলেন দুটো ছবি করে অকৃতজ্ঞের মত এই চলচ্চিত্র জগত থেকে বেরিয়ে গেলে খুব একটা কিছু এসে যায় না। কিন্তু তারা ভালোভাবে এই ইন্ডাস্ট্রি থেকে বেরিয়ে যাবেন এবং এই ধরনের মন্তব্য নিজেদের কাছেই রাখবেন এটুকুই কাম্য। 

জাইরা 'কাশ্মীরের লজ্জা'! মৌলবাদীদের চাপেই কঠোর সিদ্ধান্ত দঙ্গল-কন্যার

কিন্তু তার পরেই কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের থেকে জানা যায়, মৌলবাদীদের চাপেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন জাইরা। সঙ্গে সঙ্গে আগের টুইটটি ডিলিট করে রবিনা লেখেন, আমি ওর জন্য প্রার্থনা করছি, ও যেন শক্ত থাকে। আমার সেদিনের টুইটের জন্য আমি অনুশোচনা করছি। হয়তো ওকে জোর করে এটা লেখানো হয়েছে। আমি ওই টুইটটি ডিলিট করছি। 

এবার রঙ্গোলিও টুইটারে বললেন জাইরাকে সমালোচনা না করে তাঁর সমস্যাটা বোঝা উচিত। রঙ্গোলি লেখেন, মানুষের ওকে সমালোচনা না করে ওর সমস্যাটা বোঝা উচিত। যখন ধর্মই কোনও কিছু অনুমতি দেয় না, তখন একটা বাচ্চা কীই বা করতে পারে। 

প্রসঙ্গত, সংবাদমাধ্যমের কাছে একটি ভয়েস টেপ আসে, যেখানে শোনা যাচ্ছে কাশ্মীরের এক ধর্মগুরু বলছেন, জাইরা ওয়াসিম ও কাশ্মীরের বক্সিং চ্যাম্পিয়ন তাজামুল এই দুজন কাশ্মীরের লজ্জা। কাশ্মীরের এই দুই ছেলে মেয়েই ইসলামের সীমা লঙ্ঘন করছে। 
ওই ধর্মগুরুকে বলতে শোনা যাচ্ছে যে কাশ্মীরের কোনও ছেলেমেয়েরই বলিউডে বিনোদন জগতে যাওয়া উচিত নয়। এমনকী জাইরা ও তাজামুলের পরিবারেরও নিন্দা করেছেন ওই ব্যক্তি। 

সংবাদমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনটি থেকেই জানা যাচ্ছে, মৌলবাদীদের চাপ এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে জাইরার পরিবারের লোকজন বাড়িক বাইরেও বেরোতে পারছিলেন না। এই নতুন তথ্যই ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে জাইরা কি এই লম্বা পোস্ট নিজে লিখেছিলেন নাকি তাঁকে দিয়ে জোর করে এই পোস্ট করানো হয়েছে।