আজ বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। এই দিনে আমরা সেই সব প্রতিভাবান অভিনেতাদের স্মরণ করছি, যাঁদের অকালমৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। সুশান্ত সিং রাজপুত থেকে জিয়া খান, তালিকায় রয়েছেন অনেকেই।
বিনোদন জগতে বহু প্রতিভাবান অভিনেতা-অভিনেত্রীর অকালমৃত্যু হয়েছে আত্মহত্যার কারণে। বলিউড তারকা থেকে শুরু করে টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ, তাঁদের এই আকস্মিক বিদায় দর্শকদের হতবাক করেছে এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আজ বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসে (World Suicide Prevention Day) আমরা সেই সব শিল্পীদের স্মরণ করব, যাঁরা আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন।
সুশান্ত সিং রাজপুত
সমসাময়িক হিন্দি সিনেমার অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। টেলিভিশনে কেরিয়ার শুরু করার পর 'কাই পো চে!', 'শুদ্ধ দেশি রোম্যান্স', 'এম.এস. ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি' এবং 'ছিছোড়ে'-র মতো সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে নিজের জায়গা পাকা করেন। ভারতীয় ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিং ধোনির চরিত্রে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিল। ২০২০ সালের জুন মাসে, মাত্র ৩৪ বছর বয়সে সুশান্ত আত্মহত্যা করেন। তাঁর মৃত্যু দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং মানসিক স্বাস্থ্য, মিডিয়ার ভূমিকা ও বিনোদন জগতের চাপ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
জিয়া খান
জিয়া খান ২০০৭ সালে 'নিঃশব্দ' সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন, যেখানে তাঁর সহ-অভিনেতা ছিলেন অমিতাভ বচ্চন। এরপর 'গজনি' এবং 'হাউসফুল'-এর মতো ছবিতেও তাঁকে দেখা যায়। তাঁর ফিল্মি কেরিয়ার খুব দীর্ঘ না হলেও, তিনি তাঁর অভিনয় ও স্ক্রিন প্রেজেন্সের জন্য নজর কেড়েছিলেন। ২০১৩ সালের জুন মাসে মাত্র ২৫ বছর বয়সে জিয়া আত্মহত্যা করেন। তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে দীর্ঘ আইনি তদন্ত চলে এবং জনমানসে ব্যাপক আলোচনা হয়। ইন্ডাস্ট্রির এক অসমাপ্ত যাত্রা হিসেবেই তাঁর জীবন ও কেরিয়ারকে মনে করা হয়।
প্রত্যুষা ব্যানার্জী
প্রত্যুষা ব্যানার্জী ভারতীয় টেলিভিশনের এক অতি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন, বিশেষ করে জনপ্রিয় সিরিয়াল 'বালিকা বধূ'-তে 'আনন্দী' চরিত্রে অভিনয় করে। এই চরিত্রের দৌলতে তিনি সেই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় টিভি তারকা হয়ে ওঠেন। তিনি রিয়্যালিটি শো-তেও অংশ নিয়েছিলেন এবং অন্যান্য টিভি প্রজেক্টেও কাজ করেছেন। ২০১৬ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে প্রত্যুষা আত্মহত্যা করেন। তাঁর মৃত্যু টেলিভিশন দর্শক ও সহকর্মীদের গভীরভাবে প্রভাবিত করে এবং তরুণ শিল্পীদের উপর মানসিক চাপের বিষয়টি আবার সামনে নিয়ে আসে।
কুশল পাঞ্জাবী
কুশল পাঞ্জাবী টেলিভিশন, সিনেমা এবং মডেলিং—তিনটি মাধ্যমেই কাজ করেছেন। 'ইশক মে মরজাওয়া', 'কসম সে' এবং 'দেখো মগর প্যায়ার সে'-র মতো বেশ কিছু জনপ্রিয় শো-তে তাঁকে দেখা গেছে। বিভিন্ন বিনোদন প্ল্যাটফর্মে কাজ করার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ৩৭ বছর বয়সে তিনি আত্মহত্যা করেন। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যু টেলিভিশন জগৎ ও তাঁর অনুরাগীদের হতবাক করে দেয়।
সেজল শর্মা
সেজল শর্মা ছিলেন একজন টেলিভিশন অভিনেত্রী। জনপ্রিয় হিন্দি সিরিয়াল 'দিল তো হ্যাপি হ্যায় জি'-তে অভিনয় করে তিনি পরিচিতি পান। বিনোদন জগতে নিজের জায়গা তৈরি করার স্বপ্ন নিয়ে তিনি মুম্বাই এসেছিলেন এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে কেরিয়ার গড়ার চেষ্টা করছিলেন। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ২৬ বছর বয়সে সেজল আত্মহত্যা করেন। তাঁর অকালমৃত্যু আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে এই কঠিন প্রতিযোগিতার ইন্ডাস্ট্রিতে নতুনদের কতটা লড়াই করতে হয়।
মৃত্যুর চেয়েও বড় হোক তাঁদের কাজ
এই অভিনেতাদের মৃত্যু বিনোদন জগতের মানসিক স্বাস্থ্য এবং এর সঙ্গে জড়িত চাপ নিয়ে আলোচনা উস্কে দিয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, আত্মহত্যা একটি জটিল বিষয় এবং এর জন্য কোনও একটি নির্দিষ্ট ঘটনা, সম্পর্ক বা পেশাগত সমস্যাকে সরাসরি দায়ী করা যায় না।
জনমানসে প্রায়শই এই ধরনের মৃত্যুকে ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়। কিন্তু তার চেয়েও বেশি জরুরি হল এই শিল্পীদের তাঁদের কাজের জন্য মনে রাখা, তাঁদের প্রতিভাকে সম্মান জানানো। তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কাটাছেঁড়া না করে, সংবেদনশীল থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।


