সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সমান্থা জানিয়েছেন, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তাঁর সবচেয়ে বড় ভয় কী!

অভিনেত্রী সমান্থা রুথ প্রভু জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই তিনি মা হতে চলেছেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরে সন্তানের জন্মের সম্ভাবনা থাকায় অভিনয় থেকে আবারও কিছু দিনের বিরতি নেবেন তিনি। তবে এই আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে এক গভীর উদ্বেগও। অতীতে ‘মায়োসাইটিস’-এর মতো জটিল রোগের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই করার অভিজ্ঞতা আজও তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

২০২২ সালে ‘যশোদা’ ছবির প্রচারের সময় সমান্থা প্রথম প্রকাশ্যে জানান যে, তিনি মায়োসাইটিসে আক্রান্ত। এই অটোইমিউন রোগের কারণে শরীরের পেশিতে প্রদাহ, তীব্র ব্যথা এবং দুর্বলতা দেখা দেয়। সেই সময় প্রায় দু’বছর অভিনয় থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। একই সময়ে ব্যক্তিগত জীবনেও বড় ধাক্কা আসে—প্রাক্তন স্বামী নাগ চৈতন্যের সঙ্গে বিচ্ছেদ। শারীরিক ও মানসিক নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলেছেন অভিনেত্রী।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সমান্থা জানিয়েছেন, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তাঁর সবচেয়ে বড় ভয় হল আবার যেন সেই অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণার মুখোমুখি হতে না হয়। তিনি বলেন, “প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি প্রার্থনা করি, যেন আজ কোনও ব্যথা না হয়। সারাদিন সুস্থভাবে কাটানোর মতো শক্তি ও সামর্থ্য যেন আমার থাকে। অনেক সময় মনে হয়, হয়তো দিনটা শেষ করার মতো শক্তিও থাকবে না।”

তিনি আরও জানান, ‘মা ইন্তি বঙ্গারাম’ ছবির প্রস্তাব যখন প্রথম আসে, তখন তিনি দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি জানতাম না, আমি আদৌ ছবিটা করতে পারব কি না, বা আমার শরীর সায় দেবে কি না। যখন জীবনে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে, তখন প্রতিটি দিনকে সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন।”

মা হওয়ার স্বপ্ন সমান্থার বহু দিনের। অতীতেও তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, একদিন সন্তানকে নিয়ে সুন্দর একটি পরিবার গড়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবের পথে। তবে নিজের শৈশবের কঠিন অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। তাই তিনি চান, তাঁর সন্তান যেন কোনও কষ্ট বা খারাপ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে না যায়।

সমান্থা জানিয়েছেন, সন্তানের জন্মের পর প্রথম কয়েক বছর তিনি পুরো সময়টাই পরিবার এবং সন্তানকে দিতে চান। তাঁর বিশ্বাস, একজন মায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সন্তানের জীবনের প্রথম কয়েকটি বছর পাশে থাকা। তাই অভিনয়ের ব্যস্ততার মাঝেও মাতৃত্বকেই তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নিতে চলেছেন।

জীবনের কঠিন সময়, অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়াই, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভাঙন—সব বাধা পেরিয়ে সমান্থা আজ নতুন আশার আলো দেখছেন। সামনে মাতৃত্বের নতুন অধ্যায়, আর সেই পথচলাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে আনন্দ, আবেগ এবং স্বাভাবিক কিছু উদ্বেগ। ভক্তদের প্রত্যাশা, জীবনের এই নতুন সফর সুখ, সুস্থতা ও ভালোবাসায় ভরে উঠুক।