অভিনেতা জীতু কমল ও সাংসদ-অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের সাম্প্রতিক দ্বন্দ্ব নতুন করে চর্চায়। এই বিতর্কের আবহে মুখ খুলেছেন জীতুর প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতা দাস…..
শুক্রবার মাঝরাত থেকে নতুন করে চর্চায় অভিনেতা জীতু কমল এবং তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ-এর দ্বন্দ্ব। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জীতু দাবি করেন, সায়নীর কাছ থেকে তিনি ‘হুমকি’ বার্তা পেয়েছিলেন। সেই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয় জোর বিতর্ক। পাল্টা প্রতিক্রিয়াও দেন সায়নী। আর এই ঘটনাক্রমেই আবার সামনে উঠে আসে ২০২২ সালে জীতু ও তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতা দাস-এর সঙ্গে ঘটে যাওয়া এক পুরনো দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ।

প্রায় তিন বছর পর এই বিতর্কের মাঝেই আবার একসঙ্গে দেখা যায় জীতু ও নবনীতাকে। ২০২২ সালে বিরাটি থেকে সোদপুর যাওয়ার পথে তাঁদের গাড়ির সঙ্গে একটি পণ্যবাহী গাড়ির সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ, এরপর নিমতা থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তাঁদের হেনস্থার মুখে পড়তে হয়। এমনকি থানার সামনেই তাঁদের খুন ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি উঠেছিল সে সময়।
সেই ঘটনার পরই নাকি সায়নী ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন জীতু ও নবনীতা। চার বছর পর আবার সায়নী-জীতু সংঘাত সেই পুরনো অধ্যায়কে সামনে এনে ফেলেছে। তবে এই পুরো ঘটনার মধ্যে নিজেকে খুব বেশি জড়াতে চান না নবনীতা।
অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, গত তিন বছরে জীতুর সঙ্গে তাঁর খুব একটা যোগাযোগ ছিল না। তিনি বলেন, “যখনই কোনও বিতর্কিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে— যেমন দিতিপ্রিয়া হোক বা শ্রাবন্তীদিকে নিয়ে সমস্যা— তখনই এক-দু’বার কথা হয়েছে।” সায়নী ও জীতুর কথোপকথনের মাঝেও তিনি ছিলেন না বলে জানান নবনীতা। ফলে প্রথমে বিষয়টি ঠিক বুঝতেও পারেননি।
নবনীতার কথায়, “আমি খেতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ জীতুর ফোন পাই। ওর ডাকেই অত রাতে গিয়ে দেখা করি। পরে সায়নীর সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। আমার সঙ্গে তো সত্যিই কোনও সমস্যা নেই ওর। সায়নী আমাকে বলেছিল, ‘তুই ছাড়, কোনও চাপ নেই।’”
তিনি আরও জানান, এর আগেও দুইবার সায়নী ঘোষকে ফোন করেছিলেন তিনি— একবার রাস্তার সেই সমস্যার সময়, আরেকবার জীতুর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পরে। নবনীতার দাবি, “ডিভোর্সের পরে আমি সায়নীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। তখন ও ফোন তোলেনি। যদি সেই সময় কথা হত, তা হলে হয়তো আমাদের বিচ্ছেদ নিয়ে আরও বড় বিতর্ক তৈরি হত। কারণ, আমাদের বিচ্ছেদটা খুব সহজ ছিল না।”
এমনকি পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি চিত্রনাট্যকার লীনা গঙ্গোপাধ্যায়-এর কাছেও গিয়েছিলেন বলে জানান অভিনেত্রী। লীনা তাঁকে লিখিত অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। যদিও পরে নিজেই সমস্ত বিতর্ক থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন নবনীতা। তাঁর কথায়, “নতুন ভাবে জীবন শুরু করতে চেয়েছিলাম।”
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন নবনীতা। তিনি কোনও তিক্ততা বা প্রকাশ্য বিবাদে জড়াতে চান না। তাঁর মতে, শিল্পীদের নিজেদের মধ্যে এ ধরনের সংঘাত ইন্ডাস্ট্রির জন্যই ক্ষতিকর। বিশেষ করে সেখানে যদি রাজনীতির রং লাগে, তবে তার প্রভাব আরও নেতিবাচক হয়।
তাই এই বিতর্কের আবহে নিজেকে আলোচনার কেন্দ্র থেকে দূরে রাখতেই চাইছেন নবনীতা। আপাতত তিনি ব্যস্ত নিজের জীবন ও কাজ নিয়েই— রোল, ক্যামেরা, লাইট, অ্যাকশনের বাইরের এক শান্ত পরিসরে।
