‘বন্দে মাতরম্’ গানটি নিয়ে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন কঙ্গনা রানাউত।
‘বন্দে মাতরম্’ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের আবহে এবার মুখ খুললেন বলিউড অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্যের পরেই তাঁর প্রতিক্রিয়া ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। শর্মিলা মনে করেছিলেন, গানটির প্রথম দুই স্তবকই জাতীয় সংগীত হিসেবে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তাঁর যুক্তি, পরের অংশে হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ থাকায় একেশ্বরবাদী ধর্মাবলম্বীদের কাছে তা অস্বস্তিকর হতে পারে।
শর্মিলার এই বক্তব্যে একেবারেই সহমত নন কঙ্গনা। বরং তাঁর দাবি, কোনও শিল্প বা জাতীয় প্রতীককে শুধুমাত্র ধর্মের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। কঙ্গনা প্রশ্ন তোলেন, একজন শিল্পীর কাছ থেকে এমন সীমিত দৃষ্টিভঙ্গি আশা করা যায় কি না। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—‘বন্দে মাতরম্’-কে হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের চশমায় না দেখে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও দেশাত্মবোধের প্রতীক হিসেবে দেখা উচিত।
কঙ্গনা আরও বলেন, ‘বন্দে মাতরম্’ শুধুমাত্র একটি গান নয়, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের আবেগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা একটি প্রতীক। তাঁর মতে, গানটির ভাবনা দেশের মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তি ও দেশপ্রেমকে জাগিয়ে তোলার সঙ্গে যুক্ত। তাই এর ব্যাখ্যাকে শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা ঠিক নয়।
অন্যদিকে, শর্মিলা ঠাকুরের বক্তব্যের পেছনে রয়েছে অন্তর্ভুক্তির প্রশ্ন। গানটির পরের স্তবকগুলিতে দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মতো হিন্দু দেবীর উল্লেখ রয়েছে। সেই কারণেই বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের মানুষের কাছে গানটির সম্পূর্ণ অংশের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে।
এই বিতর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনা ‘বন্দে মাতরম্’ স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। ১৯৫০ সালে সংবিধান সভা গানটিকে জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং ‘জন গণ মন’-এর সঙ্গে সমান সম্মান দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়।
ফলে ‘বন্দে মাতরম্’ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক শুধু দুই তারকার মতপার্থক্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। জাতীয় প্রতীক, ধর্মীয় অনুভূতি, শিল্পের স্বাধীনতা এবং দেশাত্মবোধ—সবকিছুকে ঘিরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। আর কঙ্গনা-শর্মিলার মতবিরোধ সেই বিতর্কে যোগ করেছে বলিউডেরও এক নতুন মাত্রা।
