Surat Suicide: মন্দিরের শৌচাগার থেকে দুই কলেজ ছাত্রীর দেহ উদ্ধার, আত্মহত্যা? ঘনাচ্ছে রহস্য

গুজরাটের সুরাটে একটি মর্মান্তিক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সেখানকার একটি স্বামীনারায়ণ মন্দিরের শৌচাগার থেকে দুই তরুণী কলেজ ছাত্রীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত দুই বান্ধবীর বয়স ১৮ এবং ২০ বছর। দিন্দোলি এলাকার কাছে সানিয়া গ্রামের ওই মন্দিরে এই ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ আধিকারিকদের মতে, ছাত্রীরা অ্যানাস্থেটিক ড্রাগ ইনজেক্ট করে আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা শৌচাগার থেকে সিরিঞ্জ এবং ওষুধের শিশি উদ্ধার করেছেন, যা থেকে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। এত কম বয়সে দুই ছাত্রীর এমন মর্মান্তমান্তিক পরিণতিতে স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রশাসন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

জানা গেছে, ওই দুই ছাত্রী ৬ মার্চ সকালে কলেজের জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন, কিন্তু আর ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পুলিশকে খবর দেন এবং খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তদন্তের সময় পুলিশ তাঁদের মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে ওই মন্দিরের চত্বরে পৌঁছায়।

মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই বান্ধবী সকাল ৭:৪৪ নাগাদ শৌচাগারে ঢুকেছিলেন। দীর্ঘক্ষণ তাঁরা বেরিয়ে না আসায় সন্দেহ হয়। পরে দেখা যায়, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। দরজা ভাঙার পর পুলিশ দুই ছাত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। তাঁদের আলাদা আলাদা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মৃতদের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা সুরাটের দুটি আলাদা কলেজের কমার্সের ছাত্রী ছিলেন। একজন ওয়াদিয়া উইমেন্স কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের বিকম ছাত্রী এবং অন্যজন উধনা সিটিজেন কমার্স কলেজের প্রথম বর্ষের বিকম ছাত্রী। এই ঘটনায় তাঁদের সহপাঠী, শিক্ষক এবং এলাকার বাসিন্দারা গভীরভাবে শোকাহত।

পুলিশ এই ঘটনার কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। ছাত্রীদের মোবাইল ফোন ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাঁরা সম্প্রতি কী নিয়ে কথাবার্তা বলেছেন বা অনলাইনে কী সার্চ করেছেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, ছাত্রীরা আত্মহত্যার পদ্ধতি নিয়ে অনলাইনে খোঁজখবর করেছিলেন বলেও মনে করা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের পর আরও তথ্য সামনে আসবে। এই মর্মান্তিক ঘটনা মানসিক স্বাস্থ্য, তরুণ প্রজন্মের উপর চাপ এবং সময়মতো সাহায্যের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা উস্কে দিয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

(আত্মহত্যা কোনও সমাধান নয়। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিন। এই ধরনের চিন্তা মাথায় এলে 'দিশা' হেল্পলাইনে ফোন করুন। টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর: ১০৫৬, ০৪৭৮-২৫৫২০৫৬)