প্রবীণ চলচ্চিত্র পরিচালক কে ভাগ্যরাজ ৭৩ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বিজয় তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তামিল সিনেমার জন্য এটিকে 'অপূরণীয় ক্ষতি' বলেছেন। তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তামিলনাড়ু সরকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্যের ঘোষণা করেছে।

শনিবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় প্রবীণ চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার কে ভাগ্যরাজের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন। তামিল সিনেমায় তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলেও ঘোষণা করেছেন তিনি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী ভাগ্যরাজের কয়েক দশকের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি এই মৃত্যুকে তামিল সিনেমার জন্য 'অপূরণীয় ক্ষতি' বলে উল্লেখ করেছেন। বিজয় লিখেছেন, "তামিল সিনেমার অন্যতম সেরা পরিচালক, অভিনেতা, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ লেখক এবং সুরকার থিরু কে ভাগ্যরাজের মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত।"

ভাগ্যরাজের গল্প বলার ধরণ এবং দর্শকদের উপর তাঁর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের প্রশংসা করে তিনি আরও লেখেন, "অনন্য গল্প, হাস্যরসে ভরা অভিনয় এবং গ্রামীণ জীবন ও পারিবারিক সম্পর্কের গভীর আবেগ ফুটিয়ে তোলার মাধ্যমে থিরু কে ভাগ্যরাজ তামিল মানুষের হৃদয়ে এক চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। তামিল চলচ্চিত্র জগতে তাঁর অবদান অপরিসীম।"

তাঁর কাজকে কালজয়ী উল্লেখ করে বিজয় যোগ করেন, "তাঁর প্রতিটি সৃষ্টি মানবিকতা এবং সামাজিক মূল্যবোধের কথা বলে, যা চিরকাল মানুষের মনে থেকে যাবে। তাঁর মৃত্যু তামিল সিনেমার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।"

মুখ্যমন্ত্রী ভাগ্যরাজের পরিবার ও অনুরাগীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, “আমি তাঁর শোকাহত পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, চলচ্চিত্র জগতের সদস্য এবং অনুরাগীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আমি প্রার্থনা করি তাঁর আত্মা যেন ঈশ্বরের চরণে শান্তি পায়। চলচ্চিত্র জগতে থিরু কে ভাগ্যরাজের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর শেষকৃত্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন করা হবে।”

শনিবার চেন্নাইয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান প্রবীণ তামিল অভিনেতা, পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার কে ভাগ্যরাজ। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

এর আগে দিনের বেলায় তাঁর মরদেহ চেন্নাইয়ের বাসভবনে নিয়ে আসা হয়। চেন্নাইয়ের গ্রিনওয়েজ এলাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে কার্ডিওপালমোনারি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা সত্ত্বেও, ২৭ জুন এই কিংবদন্তী পরিচালক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকারও এই পরিচালকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

X-এ একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, “প্রবীণ তামিল চলচ্চিত্র পরিচালক ও লেখক থিরু কে ভাগ্যরাজের মৃত্যু চলচ্চিত্র জগতের জন্য এক বিরাট ক্ষতি। তাঁর অনন্য গল্প বলার ধরণ, সৃজনশীলতা এবং তামিল সিনেমায় বিশাল অবদান দর্শকদের হৃদয়ে তাঁকে একটি বিশেষ জায়গা দিয়েছে। তাঁর কাজ আগামী প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সিনেমাপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করবে। আমি তাঁর পরিবার, বন্ধু এবং অগণিত অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। তাঁর আত্মা শান্তিতে থাকুক।”

১৯৫৩ সালের ৭ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন কৃষ্ণস্বামী ভাগ্যরাজ। তিনি 'কিং অফ স্ক্রিনপ্লে' নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। সাধারণ মধ্যবিত্ত জীবনের চরিত্র, বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপ এবং আবেগঘন গল্প দিয়ে তিনি তামিল বাণিজ্যিক সিনেমার সংজ্ঞা নতুন করে লিখেছিলেন।

১৯৭৯ সালে 'সুভারিল্লাথা চিথিরাঙ্গল' ছবির মাধ্যমে তিনি পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর 'আন্ধা ৭ নাটকাল' (১৯৮১), 'মুন্ধানাই মুদিচু' (১৯৮৩), 'চিন্না ভিদু' (১৯৮৫) এবং 'এঙ্গা চিন্না রাসা' (১৯৮৭)-র মতো প্রশংসিত ছবি উপহার দেন। 'এঙ্গা চিন্না রাসা'-র সাফল্য এতটাই ছিল যে, এটি ভারতের বিভিন্ন ভাষায় রিমেক হয়। এর মধ্যে অন্যতম হল হিন্দি ব্লকবাস্টার ছবি 'বেটা'।

প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা ভারতীরাজার সহকারী পরিচালক হিসেবে তিনি তাঁর কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। পরে ভাগ্যরাজ নিজেকে তামিল সিনেমার অন্যতম সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। কয়েক দশকের দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি ৭৫টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন, ২৫টির বেশি ছবি পরিচালনা করেছেন। এছাড়াও তিনি প্রযোজক, ঔপন্যাসিক এবং 'ভাগ্য' নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন। 'মুন্ধানাই মুদিচু' ছবির জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেতার পুরস্কারও জেতেন।

ভাগ্যরাজের পরিবারে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী, প্রাক্তন অভিনেত্রী পূর্ণিমা ভাগ্যরাজ, মেয়ে শরণ্যা এবং ছেলে, অভিনেতা শান্তনু ভাগ্যরাজ। উল্লেখ্য, তাঁর গুরু তথা প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ভারতীরাজার মৃত্যুর মাত্র ১৭ দিনের মাথায় ভাগ্যরাজের মৃত্যু হল। এটি তামিল সিনেমার জন্য নিঃসন্দেহে আরও একটি বড় ধাক্কা।