চলে গেলেন ক্রিস্টোফার প্লুমার। দ্য সাউন্ড অফ মিউজিকের ক্যাপ্টেন ভন ট্র্যাপ-এর কালজয়ী অভিনেতার প্রয়াণে খবরে বিশ্ব চলচ্চিত্র মহলে শোকের ছায়া। বরবারই চরিত্রাভিনয়ের দিকেই বেশি ঝোঁক ছিল ক্রিস্টোফারের। পছন্দের চরিত্র না পেলে অভিনয় করতে চাইতেন না। বরং বরাবরই চলচ্চিত্রের থেকেও বেশি গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন মঞ্চের অভিনয়কে। কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল বিশ্ব চলচ্চিত্রের বরণ্য হওয়ার পথে মঞ্চের অভিনয়-ই তাঁকে দক্ষ করে তুলেছিল একজন অভিনেতা হিসাবে খ্যাতির শিখরে উঠতে। হলিউডের ক্লাসিক যুগের যে সব অভিনেতাদের নাম আসে সর্বাগ্রে সেখানে ক্রিস্টোফারের নাম থাকবে এক্কেবারে উপরের দিকে। কানাডায় জন্ম ক্রিস্টোফারেরর। কিন্তু, তাঁর অভিনয়ের কর্মকাণ্ড বিস্তার পেয়েছিল ব্রিটেন থেকে আমেরিকার অভিনয় জগতে। 

 

 

ক্রিস্টোফারের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে কিছুদিন আগে তিনি পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পেয়েছিলেন। এরপর থেকে প্রায় জ্ঞান ছিল না ৯১ বছরের অভিনেতার। কানেটিকাটের বাড়িতে ক্রিস্টোফারের মৃত্যুশয্যায় পাশে ছিলেন স্ত্রী ইলাইন টেলর। ক্রিস্টোফারের দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং ম্যানেজার লউ পিট এমনটাই জানিয়েছেন। 

ক্রিস্টোফার প্লুমারের অভিনয় জীবন- 


১৯৫৪ সালে নিউইয়র্কের ব্রডওয়েতে অভিনয় জীবনে অভিষেক ঘটান ক্রিস্টোফার। ১৯৫৮ সালে সিডনি লুমেট-এর স্টেজ স্টাক সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক করেন তিনি। কিন্তু, ক্রিস্টোফারকে পাদপ্রদীপে নিয়ে আসে দ্য সাউন্ড অফ মিউজিক। ১৯৬৫ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে অভিনেত্রী এবং নায়িকা জুলি অ্যান্ড্রিউজের বিপরীতে ক্যাপ্টেন ভন ট্র্যাপ-এর চরিত্র ক্রিস্টোফারের অভিনয় ক্ষমতাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরে। বিশ্ব চলচ্চিত্রের সেরা মিউজিক্যাল হিসাবে এখনও এক নম্বরে বসে রয়েছে দ্য সাউন্ড অফ মিউজিক। 

এরপর ১৯৭৪ সালে সাইরানো-তে সাইরানো দ্য বারগারাক-এর চরিত্র ফের ক্রিস্টোফার-কে বিশ্ব চলচ্চিত্রের মানচিত্রে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা দেয়। ক্রিস্টোফার বিশ্বাস করতেন শেক্সপিয়ারের রচিত করা সমস্ত চরিত্রগুলো তাঁর শরীর এবং মনন জুড়ে রয়েছে। সেই কারণে, শেক্সপিয়ারের নাটকের যে কোনও চরিত্র করতে পিছপা হতেন না তিনি। এর জন্য তিনি ওথেলো-তে ইয়াগো-র চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে মনে করতেন ক্রিস্টোফার। এছাড়াও তিনি হ্যামলেট থেকে ম্যাকবেথ, কিং লিয়ার এবং ব্যারিমোরের মতো চরিত্রে নিজের অভিনয় দক্ষতাকে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। ক্রিস্টোফারের বিখ্যাত মঞ্চ অভিনয়ের মধ্যে রয়েছে জেবি, নো ম্যানস ল্যান্ড, ইনহেরিট ইন দ্য উইন্ড-এর মতো নাটক। 

অ্যাকাডেমি-র ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে সম্মানিত অভিনেতা-

অভিনয়ের কিংবদন্তি বনে যাওয়া ক্রিস্টোফার প্লুমার কিন্তু যৌবনকালে অস্কারের সম্মানে সম্মানিত হতে পারেননি। বরং অস্কারের স্বীকৃতি তাঁর জীবনে এসেছে এক্কেবারে শেষজীবনে। ২০১১ সালে বিগিনারের অভিনয়ের সুবাদে সহ-অভিনেতার সম্মানে অস্কার পান তিনি। ততদিনে ৮০ বছরের গণ্ডি পার করে ফেলেছিলেন। এর আগে ১৯৯৯ সালে দ্য ইনসাইডার, ২০০১-এ দ্য বিউটিফুল মাইন্ড এবং ২০০৯-এ দ্য লাস্ট-এর অভিনয়ের জন্য অস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিলেন ক্রিস্টোফার। এমনকী, ২০১৭ সালে অল দ্য মানি ইন দ্য ওয়ার্ল্ড সিনেমায় অভিনয়ের জন্যও মনোনয়ন পেয়েছিলেন ক্রিস্টোফার। তখন তাঁর বয়স ৯০-এর কাছাকাছি। তাঁর অভিনীত চরিত্রটি প্রথমে করার কথা ছিল কেভিন স্পেসির। কিন্তু, কেভিন স্পেসি-কে সরিয়ে ক্রিস্টোফার-কে নেওয়া হয় চরিত্রটিতে অভিনয়ের জন্য। 

অস্কারের বহু আগেই অবশ্য তিনি এমি অ্যাওয়ার্ডস এবং দু-দুবার টনি সম্মানেও সম্মানিত হয়েছিলেন। ১৯৯০ সালের পর তাঁর আরও কিছু বিখ্যাত কাজের মধ্যে রয়েছে- লি-এর ম্যালকম এক্স(১৯৯২), টেরেন্স মালিকের দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড(২০০৫), রিয়ান জনসনের নাইভস আউট(২০১৯), টড রবিনসনের দ্য নাস্ট ফুল মেজারস(২০১৯)।