ফিল্মমেকার বিক্রম ভাট ও তাঁর স্ত্রী শ্বেতাম্বরী ভাট একটি প্রতারণার মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। উদয়পুরে একটি ফিল্ম প্রজেক্ট নিয়ে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হয়েছিল।
বড়সড় স্বস্তি পেলেন ফিল্মমেকার বিক্রম ভাট ও তাঁর স্ত্রী শ্বেতাম্বরী ভাট। টাকা নয়ছয়ের অভিযোগে রাজস্থান পুলিশের দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের রেগুলার বেল মঞ্জুর করেছে। এই সপ্তাহের শুরুতেই আদালত শ্বেতাম্বরীকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছিল। এবার দু'জনকেই রেগুলার বেল দিয়ে স্বস্তি দিল শীর্ষ আদালত।
কী নিয়ে এই প্রতারণার মামলা?
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে উদয়পুরে একটি ফিল্ম প্রজেক্ট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে বিক্রম ও শ্বেতাম্বরীর বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হয়। ভূপালপুরা পুলিশ স্টেশনে এই মামলাটি রেজিস্টার করা হয়েছিল।
উদয়পুরের ডিস্ট্রিক্ট সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ যোগেশ গোয়েলের মতে, উদয়পুরের বাসিন্দা ডঃ অজয় মুড়দিয়া এই অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারীর দাবি, তিনি তাঁর প্রয়াত স্ত্রীর স্মৃতিতে ফিল্ম ও ডকুমেন্টারি তৈরির জন্য বিক্রম ভাটের কোম্পানির সঙ্গে একটি চুক্তি করেন। FIR অনুযায়ী, অভিযোগকারী ভাটের সংস্থাকে টাকা দেন এবং চারটি ফিল্ম তৈরির জন্য চুক্তিপত্রে সই করেন। কিন্তু অভিযোগ, প্রোডাকশন হাউস চুক্তি অনুযায়ী ফিল্ম তৈরি করে দেয়নি। যে দুটি ফিল্ম তৈরি হয়েছিল, সেগুলিতে ঠিকমতো কৃতিত্ব দেওয়া হয়নি এবং চুক্তির আওতায় থাকা সবচেয়ে বড় বাজেটের ফিল্মটির কাজ শুরুই করা হয়নি।
অভিযোগ নিয়ে কী বলছেন বিক্রম ভাট?
এই অভিযোগের জবাবে বিক্রম ভাট এর আগে সংবাদ সংস্থা ANI-কে জানিয়েছিলেন যে, তাঁর মনে হচ্ছে পুলিশকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, মিডিয়া রিপোর্ট এবং এক সাংবাদিকের কাছ থেকে FIR-এর খবর পাওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি কোনও নোটিশ পাননি।
FIR-এ উল্লেখিত আর্থিক দাবির বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন ভাট। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি এই ধরনের কোনও নথি পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা জাল। তাঁর আরও প্রশ্ন, যদি সত্যিই কোনও গন্ডগোল হয়ে থাকে, তাহলে অভিযোগকারী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না হওয়া সত্ত্বেও কেন একাধিক প্রজেক্ট শুরু করেছিলেন?
ফিল্মমেকার আরও জানান, প্রোডাকশনের বাজেট এবং পদ্ধতি নিয়ে মতবিরোধ ছিল। যেমন, গ্রিন স্ক্রিন টেকনিক ব্যবহার করা হবে নাকি আসল লোকেশনে শ্যুট করা হবে, তা নিয়ে মতপার্থক্য ছিল, কারণ এতে খরচ অনেকটাই বেড়ে যায়। তিনি 'তুমকো মেরি কসম' এবং 'বিরাট' নামের দুটি প্রজেক্টের কথাও উল্লেখ করে অভিযোগ করেন যে, কিছু কাজ মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং কর্মীদের পারিশ্রমিক মেটানো হয়নি। ভাট দাবি করেছেন, তাঁর কাছে নিজের বক্তব্য প্রমাণের জন্য ইমেল এবং চুক্তিপত্র রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, FIR দায়ের হওয়ার প্রমাণও তিনি দেখতে চাইবেন।


