তবে কঠোর পরিশ্রম, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার মাধ্যমে তিনি বর্তমানে ফিটনেস আইকনে পরিণত হয়েছেন।
বলিউড অভিনেত্রী সারা আলি খান -এর জীবন বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে মনে হয়, বাস্তবে তার পিছনে রয়েছে বহু সংগ্রামের গল্প। খুব অল্প বয়সেই বাবা-মা সইফ আলি খান ও অমৃতা সিং-এর বিচ্ছেদ দেখেছেন তিনি। সেই সময় খোরপোশ, সন্তানদের দায়িত্ব এবং আর্থিক বিষয় নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিস্তর টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল বলে বিভিন্ন সময়ে শোনা গিয়েছে।

বিচ্ছেদের পর সারা ও তাঁর ভাই ইব্রাহিমের পড়াশোনার দায়িত্ব নেন সইফ আলি খান। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য নিউ ইয়র্কের কলোম্বিয়া -এ ভর্তি হন সারা। কিন্তু সেই সময়ই জীবনে আসে আরও এক বড় সমস্যা— মাত্রাতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি।
একটা সময়ে সারার ওজন প্রায় ৮৫ কেজিতে পৌঁছে যায়। তবে বলিউডে আত্মপ্রকাশের আগে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি নিজের ওজন কমিয়ে আনেন ৫২ কেজিতে। বর্তমানে নিয়মিত শরীরচর্চা ও নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে তিনি ওজন প্রায় ৪৫ কেজিতে ধরে রেখেছেন।
সারা নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ছিল। জলখাবারে তিনি নিয়মিত চকো-চিপ ব্রাউনি খেতেন, তাও আবার একসঙ্গে তিনটি করে। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে প্রায় প্রতিদিন দু’টি মাঝারি আকারের পিৎজ়া খেতেন তিনি।
কিন্তু কেন এত ফাস্ট ফুডের প্রতি ঝোঁক ছিল অভিনেত্রীর? সারা জানিয়েছেন, বিদেশে পড়াশোনার খরচ সামলাতে গিয়ে তিনি অনেক সময় স্বাস্থ্যকর খাবারের বদলে সস্তা ও সহজলভ্য ফাস্ট ফুড বেছে নিতেন। তাঁর কথায়, একটি মাঝারি পিৎজ়া কিনলে দ্বিতীয়টিতে ৫০ শতাংশ ছাড় পাওয়া যেত। তাই টাকা বাঁচাতেই প্রায় রোজ দু’টি পিৎজ়া খেতেন তিনি।
অভিনেত্রীর কথায়, “তখন স্বাস্থ্যের কথা অতটা ভাবতাম না। খরচ বাঁচানোই ছিল প্রধান লক্ষ্য।” তবে সময়ের সঙ্গে নিজের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এনেছেন সারা। এখন মিষ্টি, পিৎজ়া কিংবা অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকেন তিনি। মুখরোচক কিছু খেতে ইচ্ছে করলে বাড়িতে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার, বিশেষ করে মাশরুমজাতীয় পদ খেতেই বেশি পছন্দ করেন। পাশাপাশি সারা বছরই কড়া ডায়েট ও নিয়মিত ব্যায়ামের মধ্যে থাকেন অভিনেত্রী। নিজের শারীরিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সারা আলি খান প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে জীবনের যেকোনও কঠিন পরিস্থিতিকেই জয় করা সম্ভব।
