খুব কম গানই ভাষার গণ্ডি পেরিয়ে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এক দশকেরও বেশি সময় পরেও 'হোয়াই দিস কোলাভেরি ডি' একইভাবে শ্রোতাদের মন জয় করে চলেছে। এই গান প্রমাণ করে, সাধারণ সুর আর সততাই পারে ইতিহাস তৈরি করতে।
'হোয়াই দিস কোলাভেরি ডি'-র সাফল্যের মতোই এর পেছনের গল্পটাও দারুণ। শোনা যায়, সুরকার অনিরুদ্ধ রবিচন্দর মাত্র ২০ মিনিটে এর সুর তৈরি করেন। আর ধানুশ মাত্র ছয় মিনিটে গানের কথা লিখে ফেলেন। স্টুডিওতে মজা করে শুরু হওয়া একটা সেশন যে ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে জায়গা করে নেবে, তা কে জানত!

২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর তামিল ছবি '৩' মুক্তির আগেই গানটি রিলিজ হয়। আর সঙ্গে সঙ্গেই এটি মানুষের নজর কাড়ে। সিনেমা হলে আসার অনেক আগেই গানটি দেশজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কলেজ ক্যাম্পাস, ক্যাফে, পার্টি থেকে শুরু করে রেডিও স্টেশন—সব জায়গায় তখন বাজত এই গান।
গানটির জনপ্রিয়তার একটা বড় কারণ ছিল 'তাংলিশ'-এর ব্যবহার, অর্থাৎ তামিল আর ইংরেজির মজাদার মিশ্রণ। ধানুশ ইচ্ছাকৃতভাবে ঝকঝকে ব্যাকরণের দিকে না গিয়ে, তামিলরা রোজকার কথায় যে সহজ শব্দগুলো ব্যবহার করে, সেগুলোই গানে তুলে আনেন।
গানটিতে এক ভগ্নহৃদয় যুবকের কষ্টকে খুব মজার আর সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর আকর্ষণীয় সুর, মজার কথা আর নিখাদ সততা সব বয়সের শ্রোতাদের মন ছুঁয়ে যায়। 'হোয়াই দিস কোলাভেরি ডি'—যার মোটামুটি মানে দাঁড়ায় 'এই খুনে রাগ কেন?'—খুব তাড়াতাড়ি পপ-কালচারের অংশ হয়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে শুরু করে সাধারণ আড্ডা, সব জায়গায় এই কথাটা ঘুরতে থাকে।
যে সময়ে ভারতে ডিজিটাল স্ট্রিমিং সবেমাত্র নিজের জায়গা তৈরি করছে, সেই সময়ে 'কোলাভেরি ডি' সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দেয়। গানটি ইউটিউবে দ্রুততম ভিউ পাওয়া ভারতীয় মিউজিক ভিডিওগুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে ওঠে। রিলিজের কয়েক দিনের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ ভিউ হয়। মোবাইলেও লক্ষ লক্ষ ডাউনলোড হয় গানটি, যা অনলাইন মিউজিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক তৈরি করে।
এর জনপ্রিয়তা শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, সারা বিশ্বের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে যায়। এমনকি আন্তর্জাতিক রেডিও স্টেশনেও এই গান বাজানো হয়। এক দশকেরও বেশি সময় পর, ইউটিউবে গানটির ভিউ ৬০০ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। এটি ভারতের অন্যতম আইকনিক ভাইরাল হিট হিসাবে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছে। ধানুশ ও অনিরুদ্ধের এই জুটি ভারতীয় পপ-কালচারে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। আর মনে করিয়ে দেবে, কীভাবে একটা সাধারণ ভাবনা গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিতে পারে।
