নয়ের দশকের গোয়ার অন্ধকার অপরাধজগত, গ্যাংস্টার সাম্রাজ্য, বাবা-ছেলের সংঘাত এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনকে ঘিরেই এগিয়েছে ছবির গল্প। যশের সঙ্গে রয়েছেন নয়নতারা, কিয়ারা আডবাণী, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া ও রুক্মিণী বসন্ত।

অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান। প্রকাশ্যে এল দক্ষিণী সুপারস্টার যশ অভিনীত বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’-এর ট্রেলার। গান প্রকাশের পর থেকেই ছবিটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়। এবার ট্রেলারে যশের দ্বৈত চরিত্র, গ্যাংস্টার দুনিয়া, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অ্যাকশনের ঝলক সেই প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিল।

বেঙ্গালুরুতে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ট্রেলার প্রকাশ করা হয় ৮ আগস্ট । ছবিতে যশকে দেখা যাবে দ্বৈত চরিত্রে। ট্রেলারে তাঁর এক চরিত্রের নাম রায়া—এক প্রভাবশালী এবং নির্মম গ্যাংস্টার, যে অপরাধের অন্ধকার জগতের অন্যতম নিয়ন্ত্রক। তবে শুধু গ্যাংস্টার-জীবন নয়, ছবির গল্পে বাবা-ছেলের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ট্রেলার থেকে ইঙ্গিত মিলেছে। ছবিতে যশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন নয়নতারা, কিয়ারা আডবাণী, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া এবং রুক্মিণী বসন্ত। ট্রেলারে রায়ার সঙ্গে এই চরিত্রগুলির জটিল সম্পর্কের আভাসও পাওয়া গিয়েছে। বিশেষ করে কিয়ারা আডবাণীর সঙ্গে যশের রসায়ন ইতিমধ্যেই দর্শকদের নজর কেড়েছে।

এর আগে ‘টক্সিক’-এর ‘তাবাহি’ গান প্রকাশের পর যশ ও কিয়ারার ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। ফলে ট্রেলার প্রকাশের আগে থেকেই ছবিটি ঘিরে কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। ট্রেলারে সেই রসায়নের পাশাপাশি চোখে পড়েছে ছবির স্বতন্ত্র ভিজ্যুয়াল স্টাইল, বড় মাপের প্রোডাকশন ডিজাইন এবং ঝাঁঝালো অ্যাকশন দৃশ্য। তবে ‘টক্সিক’-এর গল্পের আসল চমক লুকিয়ে রয়েছে বাবা-ছেলের সম্পর্কের মধ্যে। ট্রেলার যত এগিয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে এই সম্পর্কের জটিলতা। একসময় যে সম্পর্কের মধ্যে আবেগ রয়েছে, সেটিই পরবর্তীতে সংঘাতের দিকে এগিয়ে যায়। ট্রেলারের শেষ অংশে সেই বাবা-ছেলের দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

ছবির প্রেক্ষাপটও বেশ আকর্ষণীয়। গল্পের সময়কাল নয়ের দশক এবং পটভূমি গোয়া। সেই সময়ের মাদকচক্র, অপরাধ, ক্ষমতার লড়াই এবং এক নিষ্ঠুর সাম্রাজ্যের অন্ধকার দিক উঠে আসবে ছবিতে। রায়া কীভাবে সেই অপরাধজগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে এবং তার ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলি কীভাবে বদলে যায়, সেটিই গল্পের অন্যতম মূল আকর্ষণ বলে মনে হচ্ছে। ট্রেলারে নারীবিদ্বেষ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, উগ্র মেজাজ, সম্পর্কের ভাঙাগড়া এবং ক্ষমতার লড়াইয়ের মতো একাধিক বিষয়কে সামনে আনা হয়েছে। ফলে শুধু অ্যাকশন বা গ্যাংস্টার ছবি হিসেবে নয়, সম্পর্ক ও মানসিক টানাপোড়েনের গল্প হিসেবেও ‘টক্সিক’কে উপস্থাপন করার চেষ্টা রয়েছে।

সব মিলিয়ে যশের দ্বৈত চরিত্র, নয়নতারা-কিয়ারা-হুমা-তারা-রুক্মিণীর উপস্থিতি, নয়ের দশকের গোয়ার অন্ধকার অপরাধজগত এবং বাবা-ছেলের সংঘাত—ট্রেলারেই ‘টক্সিক’ বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সেই প্রশ্নগুলির উত্তর মিলবে ছবি মুক্তির পরই।